সাভারে করোনায় চুল বিক্রির গুজবে দুই সাংবাদিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪ এপ্রিল ২০২০(বিবিনিউজ):সাভারে চুল বিক্রির ঘটনাকে পুঁজি করে অতিরঞ্জিত গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সাভার মডেল থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তরা হচ্ছেন, সাভার সিটি সেন্টারের পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতা ওবায়দুর রহমান অভি, সেফ সাভার ফেসবুক আইডির এডমিন রাজিব মাহমুদ ও নিউজ গার্ডেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ওমর ফারুক।
এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নজদারীতে রয়েছেন অনেক ফেসবুক আইডির এডমিন। যারা সাথীর মাথার চুল বিক্রির ঘটনাকে বিক্রিত করে অনলাইনে উস্কানীমূলক প্রচার করেছেন তাদের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এদের সাথে সরকার বিরোধী কোন যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা ষ্পষ্ট হতে মাঠে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

প্রকাশ, গত ২১ এপ্রিল সাভারের ব্যাংক কলোনীর জিমের গলির ভাড়াটিয়া সাথী আক্তার (২২) কে নিয়ে সেফ সাভার নামে একটি ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। স্ট্যাটাসে বলা হয়-“সাথী মাথার চুল বিক্রি করে সন্তানের দুধ কিনেছিল।” ঘটনাটি নিয়ে অতিরঞ্জিত করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও সংবাদ মাধ্যমে অপ-প্রচার হয়।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে দেখেন যে, সাথী মাথায় সমস্যার কারণে ন্যাড়া হন এবং রেখে দেয়া চুল বিক্রি করেন। যা একটি স্বাভাবিক ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যাংক কলোনীর ওই ভাড়া বাড়িতে ১০টি পরিবার বসবাস করেন এবং তাঁরা সকলেই সাথীর আত্মীয়-স্বজন। এরমধ্যে সাথীর তিন বোন, দুই বোনের স্বামী, মা-বাবা ও অন্যান্যরা পৃথক পৃথক কক্ষে বসবাস করেন। যা সাথী কখনওই প্রকাশ করেনি। এছাড়া সাথীর মা-বাবা’কে একটি সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাড়ি করে দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
১৪ বছর বয়সে সাথীর বিয়ে হয় মানিকের সাথে। এ পর্যন্ত সাথী দুই সন্তানের জননী।
মামলার বাদী ব্যাংক কলোনীর রাজিম ভূঁইয়া মিশু দাবি করেন, সরকারের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার জন্য অভিযুক্তরা ফেসবুক ও অনলাইনে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করেছেন। যা শুধু সরকারই নয়, দেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে গত ২৩ এপ্রিল সাভার মডেল থানায় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।
সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সাথী মাথা ন্যাড়া করে রেখে দেয়া চুল বিক্রি করেন। যার সাথে করোনার প্রভাবের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টিকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে অপ-প্রচার করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে সাথীর চুল কাটার ঘটনাকে পুঁজি করে যারা মিথ্যে তথ্য প্রচার করেছেন তারা রয়েছেন গোয়েন্দা নজরদারিতে।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানান, সাথীকে নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে উস্কানীমূলক পোষ্ট দিয়েছেন। এসব পোষ্টে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা মিথ্যে ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। এসব ফেসবুক আইডির এডমিনদের সাথে কার কার যোগ-সাজস রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment