ষ্ট্যাফ রিপোর্টার :- প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কমরেড অজয় রায় মারা গেছেন। সোমবার ভোর ৫ টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুই ছেলেমেয়ে বিদেশে থাকায় কমরেড অজয় রায়ের মরদেহ আপাতত বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হচ্ছে।
বুধবার সকালে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অজয় রায় সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চেরও সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। ৮৮ বছর বয়সী এই বাম নেতা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে বারডেম হাসপাতালের সিসিইউতে নিবীড় পর্যবেণে রাখা হয়।
জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা রোগ নিয়ে গত ছয় দিন আগে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হন। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নিবীড় পর্যবেণে রাখেন চিকিৎসকরা। ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জন্ম নেন অজয় রায়। ভারতের বারানসিতে থাকাকালে স্কুলজীবনেই বাম নেতাদের সংস্পর্শে এসে যুক্ত হন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। আইনজীবী বাবার মত্যুর পর ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন তিনি। এরপর কিশোরগঞ্জের বনগ্রামে দাদার বাড়িতে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টির কাজে সক্রিয় হন। পঞ্চাশের দশকে কমিউনিস্ট নেতা নগেন সরকার, ওয়ালী নেওয়াজ খান, মণি সিংহের সান্নিধ্যে আসেন অজয় রায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। অজয় রায় সংবাদপত্রের কলাম লেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখে গেছেন।
মিতু/ বিবি নিউজ/০৮
