
১৪ এপ্রিল ,২০২০(বিবিনিউজ):বাঙালির অন্যতম বৃহৎ উৎসব আজ, অথচ কী সুনসান নীরবতা চারদিকে। যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে সবাইকে, এই নীরবতাই বরং প্রত্যাশিত মনে হচ্ছে সবার। সময়ের দাবি মেনে সবার মতো ক্রিকেটাররাও ঘরে চুপচাপ পালন করছেন বাংলা নববর্ষ।
সকালে যখন মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলো, তিনি তখন ব্যস্ত তাঁর পোষা কবুতর নিয়ে। কবুতর-পর্ব শেষ হয়তো কিছুক্ষণ ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন। সুযোগ থাকলে বাড়ির উঠোনেই একটু হাত ঘোরাবেন, এভাবেই কাটবে বাঁহাতি পেসারের বাংলা বছরের প্রথম দিনটা। তবে পয়লা বৈশাখের চেয়ে মোস্তাফিজ বেশি ভাবছেন দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে, ‘পয়লা বৈশাখে খুব হইচই করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। পয়লা বৈশাখ এমনি আমার সেভাবে বের হওয়া হয় না। এবার তো আরও বেশি ঘরে আটকা। আমার মতো ঘরকুনো মানুষের জন্য ভালোই হয়েছে। তবে বেশি চিন্তা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। দিনে দিনে তো সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কবে যে এর ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) বের হবে। ভ্যাকসিন বের না হওয়া পর্যন্ত এ রোগের ভালো সমাধান পাওয়া মুশকিল।’
মোস্তাফিজের সতীর্থ সাইফউদ্দিন আবার পয়লা বৈশাখের মতো উৎসব হইচই করে কাটাতে পছন্দ করেন। এবার সেটি না হলেও পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ঘরে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ দলের এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার, ‘অন্য সময় খেলার ব্যস্ততা না থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে কাটে। যেহেতু এবার লকডাউন, কোনো আয়োজন নেই। বাঙালির বড় একটা উৎসব, কোনো আওয়াজ নেই। সবাই ঘরবন্দী। মানুষের মধ্যে হইচই নেই। কিন্তু কিছু করার নেই। এটা মেনে নিতে হবে। সব ঠিক হয়ে গেলে সামনের বছর আশা করি ভালো করে উৎসব করা যাবে।’
পয়লা বৈশাখের সকালটা মুমিনুল হকের কেটেছে ফিটনেস নিয়ে কাজ করে। বিয়ের পর এটাই তাঁর প্রথম পয়লা বৈশাখ। ঘরবন্দী থেকে উৎসব পালনের একটি ইতিবাচক দিক তাই খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘স্বাভাবিক সময়ে হয়তো সময় দিতে পারতাম না। হয়তো খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হতো। এবার তো ঘরেই থাকতে পারছি। আর পরিস্থিতি এমন নববর্ষ উদ্যাপনের চেয়ে জীবন বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী অবশ্য একটা ভালো দিক খুঁজে পাচ্ছেন ঘরে বসে নববর্ষ উদ্যাপনে, ‘অন্য বছর বাইরেই পয়লা বৈশাখ কাটে। বাসায় খুব একটা থাকা হয় না। অনেক সময় ম্যাচও থাকে। এবার বাসায় কাটছে পরিবারের সঙ্গে। অবশ্য পয়লা বৈশাখে কোনো আয়োজন নেই। বাসায় নেই। এলাকায়ও নেই। এটা সময়ের দাবি। মেনে নিতে হবে, কিচ্ছু করার নেই। বড় স্বার্থের জন্য এই কষ্টটা করতে হবে। সেটির অংশ হিসেবে আজ না হয় ঘরেই কাটল পয়লা বৈশাখ।’
