প্রথম স্ত্রীর মামলায় সাভারের কথিত সাংবাদিক রাতুল জেলহাজতে

ratul-দিয়া ইসলাম  : প্রথম স্ত্রীকে মারধর, শিশুস সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাভারের কথিত সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন রাতুল জেলহাজতে রয়েছে। মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকেও আসামী করা হয়েছে।

শনিবার সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করে রাতুলের প্রথম স্ত্রী নুরজাহান আক্তার।

মামলার আসামীরা হচ্ছে- মোজাম্মেল হোসেন রাতুল, তার স্ত্রী লাবনী আক্তার ও লাবনীর মা।

রাতুল নিজেকে ক্রাইম রিপোর্টার দাবি করে সাভারে দাপিয়ে বেড়াতেন। বিভিন্ন অফিস পাড়ায় ছিল তার পদচারনা। তার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠি ছিল সরকারী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই। সে কখনও দৈনিক দেশকাল আবার কখনও ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক পরিচিত দিতেন।

নুরজাহান, লাবনী, অঞ্জনাসহ এপর্যন্ত রাতুল ৬টি বিয়ে করেছে বলে তার এক স্ত্রী দাবী করেছে। সর্বশেষ রাতুন দুই সন্তানসহ এক মহিলাকে বিয়ে করে।

সোমবার বিকালে সাভার উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার জাহান বলেন, রাতুর তার অন্ত:সত্তা স্ত্রী ও শ্যালিকাদের নিয়ে গর্ভবতী মায়েদের ভাতা নিয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী আমাদের কাছে রাতুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আশুলিয়ার এক সাংবাদিক তার স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধর করেছে বলে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে এসেছে। তবে তিনি ওই সাংবাদিকে নাম প্রকাশ করছেন না।

রাতুলের প্রথম স্ত্রীর মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫সালে ২ ফেব্রুয়ারী বাদী নুরজাহানকে বিয়ে করেন রাতুল। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তাকে মারধর ও মানুষিক নির্যাতন করতো এবং ভরনপোষনও করতো না রাতুল। এরই মধ্যে গত মার্চ মাসে তাদের একটি পুত্র সন্তান (নাহিয়ান) জন্মগ্রহন করে।

এরইমধ্যে গোপনে রাতুন ২সন্তানসহ লাবনী আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করে বসবাস শুরু করে। এদিকে বিয়ের খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী নুরজাহান স্বামীর নতুন বাসার ঠিকানায় গেলে সে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাসা থেকে বের করে দেয়। তখন আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা বললে গত ২২ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় ডেকে নেয়। দুইদিন পর ২৪ডিসেম্বর গভীর রাতে রাতুল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী মিলে নুরজাহান ও তার শিশু পুত্রকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হতার চেষ্টা করে। তখন তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে।

পুনরায় ২৯ডিসেম্বর রাতে রাতুল তার প্রথম স্ত্রীকে আলাদা বাসায় রাখার কথা বলে শ্বশুড় বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। যাওয়ার পর রাতেই রাতুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী ও লাবনীর মা মিলে নুরজাহানকে মারধর করে। শিশু সন্তানের হাত গরম দুধের পাতিলে চেপে ধরে হাত ঝলশে ফেলে। তখন তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এঘটনায় নুরজাহার বাদীয় হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৬৫) দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিয়ে কথিত সাংবাদিক রাতুলকে গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী ও লাবনীর মা।

পহেলা জানুয়ারী রিমান্ড চেয়ে সাভার মডেল থানার এসআই আসাদুজ্জামান শেখ কথিত সাংবাদিক রাতুলকে আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরন করেন।

Related posts

Leave a Comment