বিশ্বকাপ এখনো একবছর দূরে। তবে সূচি ঘোষণার পর থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯ বিশ্বকাপের ভাবনা ঠিকই ডাল-পালা গজিয়েছে ক্রিকেটারদের মনে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাট অনুযায়ী ১০ দলের সবাই সবার বিরুদ্ধে খেলবে। তাই বাংলাদেশও বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের আশা, আগামী বিশ্বকাপে অতীতের পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ দল। এবং তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপে ভালো করার সামর্থ্য রয়েছে টাইগারদের।
গত মঙ্গলবার কল্যাণপুরের পাইকপাড়ায় চাইল্ড ও ওল্ড এইড কেয়ার হোম পরিদর্শন শেষে বিশ্বকাপে নয় ম্যাচ খেলার সুযোগ সম্পর্কে মুশফিক বলেছেন, ‘এখনো এক বছরের মতো বাকি আছে, দীর্ঘ সময় (হেসে)। কে কি হবে, না হবে বলা কঠিন। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে বিশ্বকাপটা খেলার। যেটা বললেন সবার সঙ্গে সবার খেলা হবে। ওইরকম সুযোগ আমাদের দরকার ছিল।’
ইংল্যান্ডে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। এই রেজাল্ট থেকেও বিশ্বকাপে প্রেরণা খুঁজবেন মুশফিক। তার আশা, বিশ্বকাপে এবার আগের চেয়ে ভালো করবে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমাদের ভালো একটা স্মৃতি আছে ইংল্যান্ডে। আশা থাকবে, সবার প্রত্যাশাও থাকবে বাংলাদেশ দল আগে যা করেছে তার চেয়ে ভালো করবে। সেই সামর্থ্য আছে আমাদের। এই বিশ্বকাপে আমাদের তেমন একটা দল যেতে পারে যা কিনা গত তিন-চার বিশ্বকাপ থেকে ভালো করার এই একটা সুযোগ। আমি মনে করি আমরা যারা চার-পাঁচজন সিনিয়র আছি, এবং জুনিয়ররাও মিলে যদি খেলতে পারি তাহলে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে।’
গোড়ালির ইনজুরির কারণে দুই সপ্তাহ বিশ্রামে আছেন মুশফিক। তার মাঝেই ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছেন তিনি। বিসিবির অভিজ্ঞ কোচ ও ছেলেবেলার স্যার নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গেই আবারও ব্যাটিংয়ে নতুন কিছুর চেষ্টায় কাজ করছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের ব্যাটিং গড় দৃষ্টিকটুই ছিল। ব্যাটসম্যান হিসেবে এ ফরম্যাটে উন্নতির চেষ্টা করছেন তিনি। রান পেয়েছেন নিদাহাস ট্রফিতে। ডানহাত শুধু পাওয়ারের জন্য ব্যবহার না করে সঠিক প্লেসমেন্টের ব্যবহারের জন্য কাজ করছেন মুশফিক।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা অনেক সময় ভাবি ডানহাত দিয়ে শুধু লফটেড শটই খেলা যায়। বাম ডান হাত দিয়ে বড় শট খেলা যায়। কিন্তু ডানহাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখেও যে খেলতে পারি, ডান হাত পাওয়ারের জন্য ব্যবহার না করে প্লেসমেন্টের জন্য ব্যবহার করতে পারি। এই দুইটার কম্বিনেশন ঠিক করার চেষ্টা করেছি।’
বিসিএলের পর বিশ্রামে আছেন ক্রিকেটাররা। ১৩ মে শুরু হতে পারে জাতীয় দলের ক্যাম্প। টানা ক্রিকেটের পর বিশ্রামটা ক্রিকেটারদের দরকার ছিল বলেই মনে করেন মুশফিক। তিনি আশা করছেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ভালো করবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার সাবেক এ অধিনায়ক বলেছেন, ‘শেষ আট-নয় মাস একাধারে ক্রিকেট খেলেছি। বিপিএল, লঙ্কা সিরিজ, নিদাহাস ট্রফি, ঘরোয়া লিগ। দুই সপ্তাহ বিশ্রাম অনেক প্লেয়ারদের জন্য সাহায্য হবে। তারপর ফিটনেস ক্যাম্প থাকবে। আমার মনে হয় পুরো প্রস্তুত হয়েই যেতে পারব। খুব ভালো একটি সিরিজ হবে আফগানিস্তানের সঙ্গে। যেখানে শেষ করেছি শুরুটা ওখান থেকে করলে খুব ভালো হবে।’
