রাজধানীর কোতোয়ালী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার হোলি উত্সব চলাকালে এক কলেজছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ছাত্রের নাম রওনক হোসেন ওরফে রনো (১৭)। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বান্ধবী মাইশা, আরিফ, সুমনসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে যাত্রাবাড়ি এলাকায় আগের দিন গ্যাং দ্বন্দ্বে রাকিবুল ইসলাম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ইমরান হোসেন মুন্না (১৫) নামে আরও একজন আহত হয়। খুনের ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কোতয়ালী থানার লক্ষ্মীবাজার ভিক্টোরিয়া পার্ক গলিতে রওনক ও তার বন্ধুরা রং দিয়ে হোলি খেলছিল। রওনকের বন্ধু ফাহিম জানান, কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট এলাকায় রওনকের বাসা। প্রতি বছরই তারা এ উত্সবে আসেন। গতকাল উত্সব চলার সময় দুপুর ১২টার দিকে রওনককে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এসময় অজ্ঞাত কেউ তাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিত্সকরা জানান, তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হন। তাদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
নিহতের খালোতো ভাই শামীম হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, রওনক আজিমপুর নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। কামরাঙ্গিচরের রনি মার্কেটের পাশের খলিফা বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। লক্ষীবাজারের বাসিন্দা এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তবে কয়েকমাস আগে তাদের সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এনিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকতো। সকালে হোলি উত্সবের নাম করে সে (কলেজছাত্রী) মোবাইল ফোনে রওনককে লক্ষীবাজারে ডেকে নেয়। এরপর কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও বন্ধুরা রওনককে পিটিয়ে আহত করেছিল।
রওনকের বাবার নাম শহীদ মিয়া। গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার দোহার এলাকায়। কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) জানে আলম জানান, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারাণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের কয়েকজন বন্ধু পলাতক রয়েছে। তাদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।
গ্যাং দ্বন্দ্বে খুন: এদিকে বুধবার রাত ৯ টার দিকে যাত্রাবাড়ি কাজলার লবন ফাক্টরি পাশের মাঠে দু্ই গ্যাং চক্রের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রাকিব ও তার বন্ধু মুন্না আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের দু’জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করেন। রাত দেড়টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাকিব মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে মুন্নার অবস্থা আশংঙ্কামুক্ত বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
রাকিব যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মাতুয়াইলের দরবার শরিফ রোডের জাহেদ ভিলা নামে একটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতো। তার বাবার নাম সুলতান আহমেদ। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে বড়। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায়।
যাত্রাবাড়ি থানার ওসি আনিসুর রহমান বিশ্বাস গতকাল বিকালে জানান, এলাকায় দুইটি গ্যাং এর দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
