রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণ বাস্তবায়নে কাজ করবে নিরাপত্তা পরিষদ

hasinaবাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করেছেন। এ সময় তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

অস্ট্রেলিয়ায় তিন দিনের সফর শেষে রবিবার রাত ১টার দিকে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন সকালেই রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনে আসা জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ সফর শেষে মিয়ানমার যাওয়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলটি বলেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। খুব সহসাই এই সংকটের সমাধান না মিললেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যাতে থমকে না যায় সে জন্য নিরাপত্তা পরিষদ চেষ্টা করছে।

প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ অভাবনীয় কাজ করছে। ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়া সহজ কাজ নয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যাতে থমকে না যায় সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি। মিয়ানমারকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। বিশ্বসম্প্রদায় বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে।

এদিকে গণভবনের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের বলেছেন, চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান এই সঙ্কট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। এ সমস্যার সমাধান নিয়ে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওসসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টির জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যে চুক্তি করেছে সে অনুযায়ী মিয়ারমারের কাজ করা উচিত।

প্রতিনিধি দলটি শনিবার ঢাকায় আসে। তিন দিনের সফরে দলটির সদস্যরা কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কোনারপাড়ায় শূন্যরেখায় যান। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা কথা বলেন।

বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলটি জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাদের করণীয়র অগ্রাধিকার তালিকায় রাখছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণ বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তা যেন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ কাজ করবে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বড় মানবিক কাজ করেছে। একই সঙ্গে তারা এটিও মনে করেন যে, রাশিয়া ও চীন এই সমস্যা সমাধানের পথে বাধা দিচ্ছে না।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির প্রধান এবং জাতিসংঘে পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি গুস্তাভো মেজা কোয়াদ্রা। দলে রয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স ও কুয়েতের মনসুর আল ওতাইবিও।

১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রতিনিধিবৃন্দও রয়েছেন। অপর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- বলিভিয়া, গিনি, ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, কুয়েত, লেদারল্যান্ডস, পেরু, পোল্যান্ড ও সুইডেনের স্থায়ী প্রতিনিধিগণ এবং আইভরি কোস্টের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি।

Related posts

Leave a Comment