পণ্য কিনে ভ্যাট দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন! অভিযোগ দিয়েছেন, তা পাওয়া গেছে কিনা বা কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানবেন কিভাবে? এসব অভিযোগের সমাধান হিসেবে নিয়ে চালু হয় মোবাইল অ্যাপস ‘ভ্যাট চেকার’। রাখা হয় ‘ভ্যাট চেকার ফিডব্যাক’।
‘ভ্যাট চেকার’ উদ্ভাবনের কাজটি সফলভাবে করেন এমআইএসটি’র বিমান প্রকৌশল বিভাগের জোবায়ের হোসেন, বুয়েটের সিইসি বিভাগের আশিক কামাল তুর্য। চালুর পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয় অ্যাপসটি। তবে অনেকটা হুট করেই এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে এখনো আর এটি চালু করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন ‘ভ্যাট চেকার’ অ্যাপস উদ্ভাবকদের দলনেতা জোবায়ের হোসেন। ইত্তেফাক পাঠকদের কাছে তার দেয়া ফেসবুকে দেয়া পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
খুব কষ্ট নিয়ে আপনার কাছে খোলা চিঠি লিখছি।
যে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা আপনি দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন লালন করছি আমরা তরুণরা। একাগ্র চিত্তে কাজ করে চলেছি দেশের সমস্যা সমাধানে।
একটি গল্প বলি আপনাকে। এ গল্প একজন উদ্যোক্তার মাঝপথে এক স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প।
রাজস্ব বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম “ভ্যাট চেকার” নামে এক মোবাইল অ্যাপের যাত্রা। খুব অল্পদিনে হাজারো তরুণের চেষ্টায় ঠঅঞ ঈযবপশবৎ এর মাধ্যমে চলতে থাকে ভ্যাট ফাঁকি ধরার অভিযান।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান স্যার আমাদেরকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেন, পাশে দাঁড়ান। তার অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতায় লাখো মানুষ যুক্ত হয়েছিল “ভ্যাট চেকার” এর সাথে। গত দেড় বছরে এই অ্যাপ বাঁচিয়ে দিয়েছে দেশের কয়েকশ কোটি টাকা।
কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভ্যাট চেকারকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এ বছর জাতীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে “ভ্যাট চেকার” কে। এই উদ্যোগ ছিনিয়ে এনেছে দক্ষিন এশিয়ার সেরা আইটি সম্মাননা।২০১৭ তে বাংলাদেশের সেরা উদ্যোগ হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছিলো ভ্যাট চেকার। এ বছর মার্চে ইউরোপের ভিয়েনায় আয়োজিত বিশ্বের ১৪৮ দেশের সামনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিলো আমাদের। আমন্ত্রন জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড সামিট।
আমরা আসলেই জানি না কি জবাব দিবো ভিয়েনাতে গিয়ে। দুই বছর ধরে রাজস্ব বাঁচাতে বিনা স্বার্থে যে অ্যাপ দেশকে সহযোগীতা করেছে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হলো। হয়তো মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের পদ পরিবর্তন না হলে এমনটা হতো না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার নিকট আমার অনুরোধ, আপনার নিজ হস্তক্ষেপে “ভ্যাট চেকারকে” পুনরায় সচল করে জাতীয়করণ করে নেন। আমি সত্যিই ভিয়েনাতে গিয়ে বলতে পারবো না পদ পরিবর্তন হলে স্বপ্নগুলোও ভেঙ্গে যায় আমাদের দেশে। আমার ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’’
