বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের স্বপ্নের ঠিকানা সাভারের “উত্তরণ পল্লী”

স্টাফ রিপোর্টার,১৬ জুন ২০২১(বিবিনিউজ ): ভাসমান বেদে ও পিছিয়ে পরা হিজড়া সম্প্রদায়ের স্বপ্নের ঠিকানা “উত্তরণ পল্লী” এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে এই জনগোষ্ঠির বসবাসে। বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের স্বপ্নের উত্তরণ পল্লী এখন আর স্বপ্ন নয়। তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ৫০টি পরিবারের প্রায় ৩’শ লোক এখন মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছেন এই পল্লীতে। ডেরায় থাকা ভাসমান মানুষগুলো এখন যেন খুঁজে পেয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা।

জানা গেছে, মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি হাবিবুর রহমান পিছিয়ে পরা বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়দের জীবন-মান উন্নয়নে নানামূখী প্রকল্প শুরু করেন। এ সময় তিনি অনুভব করেন, যাযাবর বেদে সম্প্রদায় ও হিজড়াদের জন্য স্থায়ী বসবাস গড়ে না তুললে এদের যুগের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাই, তিনি ২০১৯ সালে উত্তরণ পল্লীর নামে ঢাকার সাভারের বংশী নদীর তীরে খঞ্জনকাঠি এলাকায় ৩ একর জমি অধিগ্রহণ নেন। সেখানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাটের কাজ করেন। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় এই খঞ্জনকাঠিতে শুরু হয় ৫০টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান কাজ।

২০২১ সালের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের এই ঘর নির্মান শেষে হস্তান্তর করা হয় বেদে ও হিজড়া পরিবারের কাছে। আরো ৫০টি ঘর নির্মান কাজ অব্যাহত আছে। এ বছররেই তা আরো ৫০ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উত্তরণ পল্লীর বেদে সম্প্রদায়ের সাপুড়ে মনু মিয়া (৬৫)। পরিবারের ৭জন সদস্য নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করতেন। বসবাস করতেন সাভারের বংশী নদীর পাড়ে একটি পলিথিনের ছাউনি দেয়া ডেরার ভেতরে।

মনু মিয়া জানান, ডিআইজি হাবিব স্যারের অবদান বেদে সম্প্রদায় কখনও ভুলবেনা। তিনি এখন ২ ছেলে এবং ৩ মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন উত্তরণ পল্লীতে। স্থায়ী বসবাস হওয়ায় লেখাপড়া ও জীবন-মান উন্নয়নে সুযোগ পাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা। এমনিভাবে ৫০টি পরিবার বসবাস করছেন ডিআইজি হাবিবুর রহমানের উত্তরণ পল্লীতে।

উত্তরণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ) ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর রমজান আহাম্মেদ দৈনিক ভোরের পাতাকে জানান, উত্তরণ পল্লীতে ৪০টি বেদে ও ১০টি হিজড়া পরিবারের প্রায় ৩’শ লোক বসবাস করছেন। ২ শতাংশ জমির উপর নির্মিত আধাপাকা ঘরের সাথে রয়েছে পায়খানা ও রান্নার ব্যবস্থা। দুর্যোগ সহনীয় এই ঘরগুলো খুবই মজবুত। প্রতিটি ঘর নির্মানে খরচ হয়েছে ২লক্ষ ৫৮হাজার টাকা। এখানে বসবাস করে ফিছিয়ে পরা এ সম্প্রদায় স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় রাতের উত্তরণ পল্লী আলো ঝলমলে পরিবেশে রূপ নেয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান দৈনিক ভোরের পাতাকে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে সরকারের সাথে কাজ করতে হবে। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সারাদেশে উত্তরণ ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। উত্তরণ পল্লীতে স্কুল, খেলার মাঠ নির্মান, জীবন-মান উন্নয়নে আরো প্রকল্প গ্রহণ করে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে তা বিশ্বের বিস্ময়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই পরিবর্তনের অংশ নিয়ে বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবন-মান উন্নয়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি। তাই উত্তরণ পল্লী এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব।

Related posts

Leave a Comment