মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন সুষমা স্বরাজ

susomaআগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দুই দিনের সফরে আগামী ১০ মে দেশটিতে যাবেন তিনি।

মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের আরও বেশি করে সহায়তা করার কথাও ঘোষণা করতে পারেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবীশ কুমার সুষমার সফরসূচির বর্ণনা দিয়ে জানান, ‘দুই দিনের সফরে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করবেন এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিয়ানমার সফরে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন’।

সুষমার এই সফরে মিয়ানমার ও ভারতের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও জানান রাবীশ কুমার। যদিও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

রাবীশ কুমার জানান ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে। ভারত বিশ্বাস করে যে রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসাটা অত্যন্ত জরুরি। তার অভিমত, ওই অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান’।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কয়েকদিন আগেই ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের কাছ থেকে বড় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। গত সোমবার ঢাকায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আহবানের পরই ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মিয়ানমার সফরের ঘোষণা আসলো।

উল্লেখ্য গত বছরের আগষ্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে নতুন করে নির‌্যাতন শুরু হলে পর‌্যায়ক্রমে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক মহল তাদের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। গত বছরই রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার আর্থিক মূল্যের সহায়তা ঘোষণা দেয় ভারত।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সফরে গিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মিয়ানমার যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত তা অনুধাবন করতে পারছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমারের নাগরিক ও সেনা কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন।

মোদি দেশে ফেরার পরই গত ডিসেম্বরে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব এস. জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে রাখাইন প্রদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারি পর্যায়ে এই প্রথম ভারতের সাথে মিয়ানমারের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, রিলিফ অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে চুক্তি হয়, যার প্রধান লক্ষ্যই হলো রাখাইন প্রদেশে বসবাসকারী মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো এবং জীবিকার ব্যবস্থা করা।

এরপর গত জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ামনার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্বারক সই হয়। ঠিক হয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার।

Related posts

Leave a Comment