ষ্টাফ রিপোর্টার,সাভার,৪ মে, ২০২৬ (বিবিনিউজ ): বর্তমানে যে সাংবাদিকরা কারাগারে রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন সরকার অভিযোগ এনেছে তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায় চলচিত্র উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় তিনি আরও বলেন,মুলত ফ্যাসিবাদ আমলে যে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উপর অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাকে সহযোগীতা করার অভিযোগ কোন কোন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রয়েছে,আবার অনেক সাংবাদিক স্বাধীন ভাবে সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছেন তাই এই সরকারের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই, এই কারণে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলে সাংবাদিকদের জন্য যেটা ন্যায্য সেটা গ্রহণ করবো তবে আইনের বাইরে কারো কোন ক্ষতি হতে দেবো না বলেও বলেন তিনি।

তিনি আরো বলে বিগত সরকার আমলে যা বিভিন্ন কাজে দোষী বলে প্রমানিত হতে তাদের বিচার হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, জনগণের কাছে যত বেশি দায়বদ্ধ থাকা যায়, জবাবদিহির মধ্যে থাকা যায়, ততই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পথ চলা অনেক বেশি সঠিক ও পরিষ্কার হয়। আর এই জবাবদিহির প্রধান মাধ্যম হচ্ছে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং এর মাধ্যমে একমাত্র উপকৃত হয় জনগণ। রাষ্ট্রের মালিকও কিন্তু জনগণ। গণমাধ্যমের পেশা চর্চা করার ক্ষেত্রে মানুষের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে এবং যুক্তির পক্ষে দাঁড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি, তা বাদ দিলে তো আর গণমাধ্যম থাকে না। নীতিনিষ্ঠ এবং দেশপ্রেম নির্ভর এই পেশাকে তার মূল্যবোধের জায়গায় স্থির রাখতে চাইলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ গুলিকে চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোকে মোকাবিলা করতে হবে। আমি মনে করি তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীলতা আরও অনেক বেশি ধারালো হবে এবং তোমরা নিষ্ঠার সাথে এই পেশার মান রক্ষা করবে। চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধন কালে মন্ত্রী বলেন, সত্যজিৎ রায় বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) নব নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্ত ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে লেখনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”বিগত সরকার আমলে যে সকল সাংবাদিক দুর্নীতি করেছে তাদেও বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করা প্রয়োজন।
গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো- যারা অসুবিধায় আছে তাদের জন্য স্বস্তি তৈরি করা আর যারা অন্যায় ভাবে সুবিধা ভোগ করে তাদের জন্য অস্বস্তি তৈরি করাই হচ্ছে আসলে সংবাদ মাধ্যমের কাজ। উপাচার্য আরও বলেন, আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে বিগত সরকার যে ভাবে পালিয়ে গেছে আর যেন কেউ একই ভুল না করে আপনারা অভিভাবকের দায়িত্বটি পালন করবেন। সাংবাদিকদের ইতিবাচক সমালোচনা করার সৎ সাহস থাকতে হবে, তবে দয়া করে সমালোচনার ও কুৎসার মধ্যে পার্থক্যটা করতে জানতে হবে।
