৪৪ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিপেটুইউ’র দুই কর্মকর্তা এবং দুই এজেন্টকে আটক করেছে সিআইডি। আটককৃতরা প্রতারণা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্বিগুণমুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠায় সিআইডির ক্রাইম ইউনিটের কাছে। এর সূত্র ধরে সিআইডির ক্রাইম অর্গানাইজড দল তদন্ত শুরু করে। ইউনিপেটুইউয়ের দুই কর্মকর্তা ও দুই এজেন্ট ৪৪ কোটি চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। পরে বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে ইউনিপেটুইউয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল আলী, কনিষ্ঠ নির্বাহী দেওয়ান মো. মঞ্জুর কবির, এজেন্ট এ এস এম জিয়াউল হক এবং সাব এজেন্ট মো. মিলন হাসানকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী ইউনিপেটুইউ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানীর মাধ্যমে ২০০৯-২০১২ পর্যন্ত বহুস্তর বিশিষ্ট বিপনন পদ্ধতির মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরা সাধারণত জনসাধারণকে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দিয়ে প্রতারণা করে টাকা সংগ্রহ করতো।
ইউনিপেটুইউয়ের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের বলতেন এই জমাকৃত টাকা সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ায় স্বর্ণ কিনে রাখা হবে। তাদের জমাকৃত টাকা ১০ মাসে দ্বিগুণ হবে। গ্রাহকদের টাকা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিপেটুইউয়ের নিজস্ব পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকদের ভূয়া র্ভাচুয়াল ডলার জমা দেখানো হতো। প্রকৃত পক্ষে কোন র্ভাচুয়াল ডলার জমা হতোনা। এভাবেই ইউনিপেটুইউয়ের কর্মকর্তারা দেশের সাধারণ জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া ৪৪ কোটি চার লাখ টাকার মধ্যে ইকবালের দুইটি হিসাব থেকে ৫০ লাখ এবং ৩৮ লাখ টাকার সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। এছাড়াও পেসটিজ নামের ইউনিপেটুইউয়ের অন্য এক সদস্যের হিসাবে ২২ লাখ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে।
