মানিকগঞ্জের আটিগ্রামে ঐতিহ্যবাহী মা বুড়ির মেলা শুরু

mela.bhola picশেখ একে আজাদ  ॥:  মানিকগঞ্জের আটিগ্রামে আজ থেকে পৌষ সংক্রান্ত উপলক্ষ্যে শুরু হয়েছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী মা বুড়ির মেলা। এই উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার অদুরে মানিকগঞ্জ  সদর উপজেলার আটিগ্রামে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মা বুড়ির (বনদূর্গা) মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলা উপলক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ,বলাকা সংসদ ও মেলা কমিটি যৌথ ভাবে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছে। এ কর্মসূচীর মধ্যে উদ্বোধনী সভা ছাড়াও রয়েছে ১৫ দিন ব্যাপী পৌষ মেলা, আলোচনা সভা ,সার্কাস ,পুতুল নাচ,জারী ,সারী,বাউল গান সহ বহু বিনোদন অনুষ্ঠান। পন্ডিতদের মতে হিন্দুদের এই ধর্মীয় উৎসবের মূলে রয়েছে  হিন্দু ,বৌদ্ধ,ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব্ । ভারত সহ দেশ বিদেশের দুর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য নরনারী এই পৌষ মেলার  উৎসবে মিলিত হয়। পৃথিবীর সকল মানুষই আনন্দময় জীবন যাপনে উৎসাহী।  হিন্দুদের রয়েছে পূজা,পার্বন,রথ যাত্রা,সংগীত, মেলা ইত্যাদি। এমনি একটি আনন্দ উৎসব হলো শ্রী শ্রী মা বুড়ির পৌষ মেলা।
আটিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  নুর-এ-আলম সরকার( নূরু ),সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা  এবিএম হেলাল উদ্দিন, ও বরুন কুমার সরকার জানান, দীর্ঘ প্রায় ৩ শত বছর পূর্বে থেকেই ্ঐতিহ্যবাহী মা’বুড়ির মেলা শুরু হয়েছে । বিগত ১৮৯৭ -৯৮ সনে অর্থাৎ প্রায় ১ শতাব্দী পূর্বে মানিকগঞ্জ জেলার বালিয়াটির জমিদার বাবুরা প্রায় এক একর জমি বনদুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে দান করেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই পূজা করছেন স্থানীয় নর্মশুদ্ধ ও ভূই মালিরা।
এই মা বুড়ির মেলায় ৩ দিন মা বুড়ির পূজা অর্থাৎ বনদুর্গা পুজায় নর্মশুদ্ধরা শতকরা ৬০ ভাগ এবং ভূই মালিরা শতকরা  ৪০ ভাগ আয়-ব্যায় বহন করে আসছে। এই মেলা উপলক্ষ্যে আটিগ্রাম কাটিগ্রাম,কৃষ্ণপুর,ভগবানপুর,ফারিরচর,নারীকুলী,রাজনগর,বাসাই ,কুষাভাংগা,কেষ্টিসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে দুর দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনরা আসতে শুরু করেছে। এই মেলায় সকল ধর্মের লাখ লাখ মানুষের মিলন স্থলে পরিণত হয়।

এলাকাবাসী জানান,এ পৌষ মেলায় হিন্দুদের একটি উৎসব হলেও ধর্মীয় সীমা বদ্ধতা ছাড়িয়ে তা আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আটি গ্রামের এই পৌষ মেলার বৈশিষ্ট হচ্ছে কুটির শিল্পের সমাহার। এখানকার কাঠ নির্মিত দ্রব্যাদি,তামা কাশা,শিল্পের সুনাম বিশ্ব জুড়ে। বড় বড় মাছ ও এখানে কম বিক্রি হয় না । মেলায় লোক আসে দুর দূরান্ত থেকে। আসে নর-নারী শিশু যুবক বৃদ্ধ সকলেই। কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই নয় আসে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। ছোট বড় ভেদাভেদ ভুলে এ মেলা এক মানব মিলন মেলায় পরিণত হয়। মেলায় মিলে হাজারো জিনিষ পত্র । কাঁসা ও তামা শিল্প আর শিল্পের বিরাট সমাহার। মাছ ও মিষ্টির দোকানে ক্রেতাদের ভীর জমে প্রচন্ড হরেক রকমের খাদ্য সম্ভার দেখা যায় এখানে। চিনির সাজ,বিন্নি মিষ্টান্ন প্রভৃতি। এখানে বসে বিপনী বিতান। এছাড়া এখানে ওঠে কাঠের সমস্থ জিনিস পত্র খেলনা ছুরী তৈজষপত্র শামুক ঝিনুকের গয়না,অস্ত্রের টাটা শব্দ,অসংখ্য মানুষের কলরব সব মিলিয়ে এক তুলকালামকান্ড ঘটে এখান্ ে। সভ্যতা সম্প্রীতির এক মহিমায় দীপ্তিতে উদ্ভাসিত এই মেলা আটি গ্রাম বাসীদের গৌরব্বানিত করেছে।
স্থানীয় আটিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান নুর-এ-আলম সরকারকে-সভাপতি বানিয়ে ও স্থানীয় বলাকা সংসদের সভাপতিকে সাধারন সম্পাদক করে একটি শক্তিশালী মেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে । মা বুড়ির ভিটার উপর অর্থাৎ পুজার স্থানের   একটি বহুতল ভবন  নির্মান করা বিশেষ প্রয়োজন । এ সমস্যা সমাধানসহ ও উন্নয়ন কল্পে মেলা কমিটি স্থানীয় বলাকা সংসদের নেতৃবৃন্দ ও আটিগ্রাম ইউনিয়ন বাসী বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করছেন। এলাকা বাসী দলমত ও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এ মেলায় একবার ঘুরে এসে আনন্দ উপভোগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Related posts

Leave a Comment