সাভারে ঘানিতে ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেলের ঐহিত্য ধরে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা


ষ্টাফ রিপোর্টার,২ সেপ্টেম্বর,২০২০(বিবিনিউজ):সাভারে ঘানিতে ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেলের ঐহিত্য ধরে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। সাভারের নামা বাজার এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এ ঘানিতে ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেল করা হয়। এখানে প্রায় কয়েক’শ বছর ধরে ঘানিতে ভেঙ্গে খাঁটি সরিষার তেল করা হয়। সুস্বাদু ও ঝাঁঝালো সেই তেল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা হয়।
জানা যায়, সাভারের নামা বাজার এলাকায় বংশ পরামপরায় ঘানিতে ভেঙ্গে এ খাঁটি সরিষার তেল করছেন কয়েক’শ বছর ধরে ব্যবসায়ীরা। ভেজালের ভিড়ে বাজারে খাটি সরিষার তেল বেশী বিক্রি হওয়ায় দিনে দিনে অনেকেই এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘানিতে ভেঙ্গে এ খাঁটি সরিষার তেল করা হয়। প্রথমে শ্রমিকরা ঘানির উড়াতে সরিষা দিয়ে তেল ভাঙ্গা শুরু করেন। ঘানি ঘোরার সঙ্গে তাল রেখে ফোঁটায় ফোঁটায় পাত্রে চুইয়ে পড়ছে বিশুদ্ধ সরিষার তেল। কিছুক্ষণ পরপর ঘানির বলদ পরিবর্তন করছেন দায়িত্বরত ব্যক্তি। সরিষা শেষ হলে বস্তা থেকে নতুন সরিষা এনে দিচ্ছেন আবার। এক কেজি সরিষা থেকে তিন’শ গ্রাম সরিষার তেল হয়। দিনে ও রাতে এসব ঘানিতে প্রায় কয়েক’শ লিটার তেল ভাঙ্গা হয়। বাজারে ঘানিতে ভাঙ্গা খাঁটি এ সরিষার তেলের প্রচুর চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হলেও করোনার কারণে এবার একটু ব্যবসা মন্দা। বাজারে ঘানিতে ভাঙ্গা এ খাঁটি সরিষার তেল দুই’শ বিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সুস্বাদু ও ঝাঁঝালো হওয়ায় এ তেল স্থানীয়রা দাম একটু বেশী হলেও স্বাচ্ছন্দ্য কিনে নিয়ে যায়। বিভিন্ন প্রকার ভর্তাসহ মানুষের নানা রোগেও এ তেল ব্যবহার করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সরিষা কিনে এনে ঘানিতে ভেঙ্গে এ খাঁটি সরিষার তেল করেন। এসব ঘানির কারখানায় অনেক শ্রমিকেরও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
ঘানিতে সরিষা ভাঙ্গার পরর সেই খৈল গরু ও মাছের জন্য খাবার তৈরি করা হয়। এছাড়া পানের বরেও সার হিসেবে খৈল ব্যবহার করা হয়।
সরকারী ভাবে অরেকটু সুযোগ সুবিধা দিলে ঘানিতে ভেঙ্গে খাঁটি সরিষার তেল অনেকেই তৈরি করে বাজার বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

Related posts

Leave a Comment