বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে ব্রান্ডিংয়ের কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

2017-01-29_6_825285ডেস্ক রিপোর্ট : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রফতানি আয়সহ শিল্প-বাণিজ্যর প্রসার ঘটাতে চাইলে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ‘ব্রান্ডিং’ করতে হবে। এজন্য তিনি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘২০১৭ সালে দাভোসে বাংলাদেশ : কতিপয় প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মোট তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম,পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এএমবি মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট ও সিইও ফারুক সোবহান, ওর্য়াল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস সিওহাব, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও ফ্রান্সিওস ডি ম্যারিকোর্ট, ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরান বাকের, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবীর প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের অনেক কিছুই এখনও আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারিনি। সম্ভাবনাময় এসব বিষয়কে ব্রান্ডিং করতে হবে। সরকার বৈশ্বিক পর্যায়ের নানা ফোরামে এগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে সরকার, শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নতুন দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তথ্য-প্রযুক্তির নতুন সংস্করণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এখন এই প্রযুক্তিকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। আর এর ভুল ব্যবহারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয় পাওয়া যাবে। সরকার তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশকে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এবারের ডব্লিউইএফ সম্মেলনে আলোচনার বড় বিষয় ছিল বিশ্বব্যাপী আয় বৈষম্য বেড়ে যাওয়া। ২/৩ বছর আগেও দারিদ্রকে অর্থনীতির বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এখন আয় বৈষম্য বেড়ে যাওয়া বড় উদ্বেগের বিষয়। সারাবিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের মালিক ৮ জন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই আয় বৈষম্য হ্রাসে বরাবরই সচেতন থেকেছে। গত কয়েকবছর যাবৎ যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, সেটা কিভাবে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, এ নিয়ে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় আল্পস অঞ্চলে গ্রাউবান্ডেনে পার্বত্য রিসোর্ট দাভোসে ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি ডব্লিউইএফ-এর ৪৭তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

 

 

মিতু/বিবি নিউজ/১৪১৩

Related posts

Leave a Comment