ডেস্ক রিপোর্ট: আমাদের শরীরের পায়ের পাতা, পা, বা বাহুর ওপর ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টির সাথে আমরা আমাদের সকলেই পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় একটা সময় পর দেখা যায় যে সেই অঙ্গটি অবশ হয়ে গিয়েছে।
যখন আমাদের দেহের কোনো একটি অংশ সাময়িকের জন্য অবশ হয়ে যায় এর কারণ হল আমরা শরীরের সে অংশের স্নায়ুর ওপর অনেক বেশি চাপ প্রয়োগ করে ফেলেছি। স্নায়ুগুলো অনেকটা বৈদ্যুতিক তারের মতো কাজ করে। যেগুলো আপনার মস্তিষ্ক থেকে আমাদের দেহ এবং পিঠে সঙ্কেত প্রেরণ করে।
আর যখন কোনো স্নায়ুর ওপর দীর্ঘ সময়কালের জন্য চাপ থাকে এই সঙ্কেতগুলো দক্ষতার সঙ্গে চলাচল করতে পারে না। ব্যাপারটা অনেকটা পায়ের পাতার মোজার মধ্যে একটি গিট দেওয়ার মতো।
এই বিরক্তিকর অবশ অনুভূতির পাশাপাশি একটি স্নায়ুর ওপর চাপ থেকেও পিন এবং সুঁই ফোটার মতো ব্যাথা হতে পারে। চাপ পড়ার পর স্নায়ুগুলো অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
আমাদের বাহু এবং পায়ের অনেক স্নায়ু আমাদের ত্বকের নিচেই অবস্থান করে। আমরা যদি আমাদের কব্জির দিকে তাকাই তাহলেই আমরা রগ এবং রক্তনালি দেখতে পাই। স্নায়ুগুলোও সেখান দিয়েই প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের হাত ও পায়ের কিছু স্নায়ু সত্যিই খুব সহজে সংকুচিত করা সম্ভব। শুধুমাত্র সরলভাবে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেই এটা করা সম্ভব।
নারীদের সচরাচর যে স্নায়ুগুলো প্রভাবিত হয় তার একটি হলো হাঁটুর বাইরের স্নায়ুটি। এর নাম পেরোনিয়াল নার্ভ। এক পায়ের ওপর আরেক পা ক্রস করে বসার ফলে এটা ঘটে।
বাহুতে হেলান দিয়ে বা পায়ের ওপর চাপ দিয়ে বসাটাও সিয়েস্তা নামে দেহের একটি অংশের ওপর চাপ পড়ার কারণ। এটা পুরোপুরি স্বাভাবিক এবং মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই চলে যাওয়া উচিৎ। অথবা চাপ সরানোর পর যাওয়ার কথা।
এর চেয়েও বেশি ভীতিকর একটি অবস্থা হলো যখন আমাদের মধ্যরাতে জেগে ওঠার পর আমাদের বাহুটিকে পুরোপুরি পক্ষাগাতগ্রস্ত মনে হয়। প্রথমবার যখন আমাদের সঙ্গে এটা ঘটবে আমরা হয়তো আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারি। তবে আতঙ্কিত না হয়ে বরং ঝাঁকি দিন তাহলে কিছুক্ষণ পরই সংবেদনা ও শক্তি ফিরে আসবে। তবে আমরা যত বেশি সময় ধরে এর ওপর বসে থাকব তত দেরিতেই সংবেদনা ফিরে আসবে।
তবে যতক্ষণ স্নায়ুর কাঠামো এবং স্নায়ুর প্রতিরক্ষা দেয়াল অক্ষত থাকে ততক্ষণ কোনো স্থায়ী ক্ষতি হবে না। তবে কেটে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেলেই শুধু তখন স্থায়ী কোনো ক্ষতি হতে পারে।
যদি কখনো কখনো অবশ অনুভূতি হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা দূর না হয় এবং প্রায় প্রায়ই এমনটা ঘটে তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। আর এটা যদি আমাদের বুড়ো আঙ্গুল, তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকার নিচের অংশে ঘটে তাহলে এটি হতে পারে কারপাল টানেল সিনড্রোম।
কিছু কিছু অবস্থা যেমন ডায়াবেটিস বা ভিটামিন বি ১২ ঘাটতির ফলে আমাদের স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন বেশি। সুতরাং স্থায়ী কোনো ক্ষয় হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে আপনার আগেভাগেই সতর্ক হওয়া উচিৎ।
মিতু/বিবি নিউজ/৪৯৮
