সরকার জনগণের অর্থ যুক্তিযুক্তভাবে ব্যয় করায় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে : মতিয়া চৌধুরী

motiyaচলতি অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সরকার জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ সঠিক ও যুক্তিযুক্তভাবে ব্যয় করেছে বলেই মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পাট ও বস্ত্র ও প্রতিরক্ষাসহ যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্ব এবং ভিশন ২০২১এর লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার ফলে এদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এ স্থিতিশীলতা প্রমাণ করে দেশ অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরটি ছিল অস্থিতিশীলতার বছর। ওই সময়ে ৩ মাস লাগাতার অবরোধের নামে পেট্রোল বোমা দিয়ে নিরীহ জনগণকে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আর এসব নাশকতা করে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করলে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত। তারপরও শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে মনে করা হচ্ছে।
আজ বিকাল ৫টা ৩৪ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এর পর আইন প্রণয়ন কার্যাবলী শেষে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট পেশ করেন। ওই দিন তিনি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল ও স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজী অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ একটি দেশ। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করেছে যাচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তিনি বলেন, সরকারের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের কারণে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে ওপরে অর্জিত হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনীতির এ গতি অব্যাহত থাকলে আগামীবছর প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে।

Related posts

Leave a Comment