
ষ্টাফ রিপোর্টার, ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২০(বিবিনিউজ): সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় শিশুকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত ১১ সেপ্টম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মধনেরটেক এলাকায় জাবালে নুর মাদ্রাসায় শিশু রাকিব হোসেনকে (৯) হাত পা বেধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া (৩৩)। এসময় ঐ শিক্ষক আরেক শিশু শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে বেধে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেও তাকে মারধর করেন।
মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়,ঐ শিক্ষক দুই শিশুকে মারধর করার সময় আহত শিশুরা তাদেরকে না মারতে অনুরোধ করলেও মন গলেনি শিক্ষকের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যে ওই শিক্ষক এক শিশুকে বেধে রেখে অন্য শিশুকে মারধর করছে বেত দিয়ে। শিশুটি ডাক চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ তাকে মারধর করার সময় এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে শিশু রাকিব হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ঐ শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়ে বিকেলে মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এলাকাবাসী আরও বলছে গত দুই বছর আগে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মধনেরটেক এলাকায় জাবালে নুর মাদ্রাসা চালু করেন ঐ এলাকার বিতর্কিত ব্যক্তি আব্দুল জব্বার। ঐ মাদ্রাসায় আগে দুই’শ শিক্ষার্থী থাকলেও নির্যাতনের কারণে এখন ১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ঐ মাদ্রাসায় বর্তমানে দুই জন শিক্ষক রয়েছে।
এবিষয়ে ঐ মাদ্রাসার অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি শিকার করে বলেন ওই দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি তাদেরকে মারধর করেছেন। প্রশাসন তাকে যে শাস্তি দিবেন তিনি সেটা মানবেন বলেও বলেন তিনি।
এবিষয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদ্রাসার মালিক আব্দুল জব্বারের লোকজন পালিয়ে যায়। এদিকে আজ এ ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দড়িচর গ্রামের রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি মাদ্রাসায় সাত মাস ধরে শিক্ষকতা করেন বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ বলছে বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
