স্টাফ রিপোর্টার: বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাভার সেনানিবাসে পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সাভার সেনানিবাসে কর্মরত সকল সেনা সদস্যদের অংশগ্রহণে রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় সকল ইউনিটে বিশেষ আলোচনা ও ভিডিও এবং স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। সেনানিবাসের সকল মসজিদে বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সাভার সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ সাইফুল আবেদীন রোডমার্চের উদ্বোধন করেন এবং রোডমার্চ শেষে বক্তব্য প্রদান করেন।

সেনানিবাসের সকল অফিসার, জেসিও,, সৈনিকবৃন্দ ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।
এরিয়া কমান্ডার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ সাইফুল আবেদীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা কোন ভিন্ন শব্দ নয়। আমরা আজ যার যার অবস্থান থেকে ভিন্ন যে সুন্দর জীবন যাপন করছি তার জন্য আমাদের জাতির পিতা অসহনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ২৩ বছরের পাকিস্থান শাসন আমলের মধ্যে অনেক বছরই তিনি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য জেলখানায় কাটিয়েছেন। যিনি দীর্ঘ সংগ্রামের পাশাপাশি শত জেল-জুলুম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করে সমগ্র জাতিকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ করেন এবং নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। তিনি নিঃস্বার্থ ভাবে তাঁর জীবনের সবকিছু ব্যয় করেছেন বাঙ্গালী জাতির মুক্তির পেছনে, সোনার বাংলা গড়তে। জাতির পিতার সারা জীবনের ধ্যান জ্ঞান নিবেদিত ছিল স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পেছনে। এরই ফল স্বরূপ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন থেকেই তিনি নিবেদিত হয়েছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশকে নতুন করে গড়ার কাজে।

তিনি আরো বলেন, এ দেশের দুঃখী. দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলার পাশাপাশি তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী সশস্ত্র বাহিনীর। এরই ফলশ্রুতিতে মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য সংগ্রহ করেছিলেন আধুনিক ট্যাংক, আর্টিলারী গান এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র সরঞ্জামাদি। এছাড়াও তাঁর প্রবল আগ্রহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই কুমিল্লায় স্থাপিত হয়েছিল বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমিতে প্রথম প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে গিয়ে বলেছিলেন “এমন একদিন আসবে যে দিন দুনিয়ার মানুষ দেখতে আসবে আমাদের একাডেমিকে”। তাঁর সেই স্বপ্ন আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও আজ এক যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করে চলেছে। #

