পুরুষ হয়েও নারীর মতো কণ্ঠস্বর? লজ্জা নয়, চিকিৎসা নিন


৪ আগষ্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) :”মেয়েদের মতো কথা বলে! “ফোনে শুনে তো মেয়ে মনে হয়! এ ধরনের মন্তব্য আমাদের দেশে অনেক ছেলেকেই শুনতে হয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীদের এমন কথায় অনেকেই বিব্রত হন, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, এমনকি সামাজিক মেলামেশা বা চাকরির সাক্ষাৎকারেও সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এটি কোনো হাসি-ঠাট্টার বিষয় নয় বরং এটি পিউবারফোনিয়া নামের একটি চিকিৎসাযোগ্য কণ্ঠস্বও জনিত সমস্যা হতে পারে।
বাংলাদেশে এখনো কণ্ঠস্বরের এ ধরনের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। অনেকেই এটিকে স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য বা অভ্যাস বলে মনে করেন। ফলে বছরের পর বছর চিকিৎসা না নিয়ে মানসিক চাপ, সামাজিক অস্বস্তি ও পেশাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অথচ সময় মতো একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট পরামর্শ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
পিউবারফোনিয়া কী?
পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পার হওয়ার পরও যদি কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিকভাবে চিকন বা উচ্চ থাকে তাকে পিউবারফোনিয়া বলা হয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে নিচু বা পুরুষালি কণ্ঠস্বরকে অ্যান্ড্রোফোনিয়া বলা হয়। সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ থেরাপি গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সফল সমাধান সম্ভব।
কেন হয় এই সমস্যা?
বয়ঃসন্ধির সময় হরমোনের প্রভাবে ছেলেদের স্বরযন্ত্র বড় হয় এবং ভোকাল ফোল্ড লম্বা ও মোটা হয়ে কণ্ঠস্বর স্বাভাবিকভাবে ভারী হয়ে যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও ব্যক্তি অভ্যাসবশত আগের উচ্চ স্বরেই কথা বলতে থাকেন। এছাড়া মানসিক চাপ, ভুলভাবে কণ্ঠ ব্যবহার, ব্যক্তিত্বগত কারণ বা বিরল কিছু শারীরিক সমস্যাও এ অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

  • বয়ঃসন্ধির পরও অস্বাভাবিকভাবে চিকন বা উচ্চ কণ্ঠস্বর
  • ফোনে বা সামনাসামনি পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি
  • বন্ধু বা সহকর্মীদের উপহাসের শিকার হওয়া
  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
  • চাকরির সাক্ষাৎকার, উপস্থাপনা বা পেশাগত জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া
  • সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
  • দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দেখা দিতে পাওে ।
    চিকিৎসায় স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টের ভূমিকা
    পিউবারফোনিয়ার চিকিৎসায় একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট রোগীর কণ্ঠস্বর, শ্বাস-প্রশ্বাস, স্বরের উচ্চতা , রেজোন্যান্স এবং স্বরযন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। এরপর রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক থেরাপি পরিকল্পনা করা হয়।
    থেরাপিতে সাধারণত শেখানো হয়।
  • সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়া ও কণ্ঠ ব্যবহার
  • কণ্ঠস্বরের স্বাভাবিক উচ্চতা অর্জনের কৌশল
  • ভয়েস এক্সারসাইজ
  • কণ্ঠের যতœ নেওয়ার নিয়ম
  • বাড়ীতে নিয়মিত অনুশীলনের পদ্ধতি
    সচেতনতাই সমাধানের প্রথম ধাপ
    কণ্ঠস্বর একজন মানুষের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কাউকে তার কণ্ঠস্বর নিয়ে উপহাস না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে উৎসাহিত করুন। কারণ সময় মতো চিকিৎসা একজন মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
    লেখক পরিচিতিঃ-
    নাজনীন নিতু= , ক্লিনিক্যাল স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট,সি আর পি, রাজশাহী ।

Related posts

Leave a Comment