খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি থেকে অপহৃত তিন বাঙালি ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে আজ সোমবার জেলায় পালিত হচ্ছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ এ হরতালের ডাক দিয়েছে। হরতালের সমর্থনে সকালে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে।
হরতালের কারণে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দূরপাল্লা ও আভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীঘিনালায় সকাল বেলা দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তাছাড়া, জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকার কাছে দুই টমটমের গ্লাস ভাঙার খবর পাওয়া গেছে।
হরতালকে সমর্থন দিয়ে খাগড়াছড়ি শহরে দোকানপাট ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানও খোলেনি ব্যবসায়ীরা। এমনকি চলছে না রিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাও। সহিংসতা এড়াতে শহরের মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। মাটিরাঙ্গায়ও সর্বাত্মক হরতাল পালিত হচ্ছে। সকালে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে হরতাল সমর্থকরা। রামগড়, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মিছড়িকেও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মহালছড়ি বাজারে কাঠ কিনতে গিয়ে মাটিরাঙ্গার উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. সালাহ উদ্দিন (২৮), মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মহরম আলী (২৭) ও আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালক বাহার মিয়া (২৭) নিখোঁজ হন। সে থেকে সাত দিন অতিবাহিত হলেও এখনও তাদের কোন সন্ধান মেলেনি। অপরদিকে অপহৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেলেও অপহৃতদের এখন পর্যন্ত মুক্তি দেয়নি। এ ব্যাপারে নিখোঁজ সালাউদ্দিনের বাবা মো. খোরশেদ আলম অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসীদের নামে মাটিরাংগা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
