সিলেট ৪ মার্চ : প্রখ্যাত লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, শনিবার দিনগত রাতে বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়ায় অভিযান চালিয়ে যুবকের এক স্বজনকে আটক করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান জানান, হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান। বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার কালিয়াপন গ্রামে। পিতা আতিকুর রহমান বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তারা শহরতলীর টুকেরবাজার ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
ওসি আরও জানান, রাতে ফয়জুরদের বাসায় অভিযান চালাতে গেলে তালাবদ্ধ দেখে ফিরে আসে আইনশৃংখলা বাহিনী। মধ্যরাতে পুনরায় অভিযান চালাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে হামলাকারী যুবকের মামা ফজলুর রহমানকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিকে, জাফর ইকবালের উপর হামলাকারি যুবককে ওসমানী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে র্যাবের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ফয়জুল ইসলাম এলাকার মসজিদকে হানাফি মাযহাবের মসজিদ দাবি করে নিজে সেখানে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, ফয়জুলের বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তারা এই এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছে। মাওলানা আতিকুরের তিন ছেলে। আবুল, হাসান ও ফয়জুল। ফয়জুলকে তিনি কারও সঙ্গে মিশতে দেখতেন না। সে কোথায় লেখাপড়া করেছে, তা এখনও নিশ্চিত না।
তিনি বলেন, ফয়জুল বুকের ওপর হাত দিয়ে নামাজ পড়তো। আমাদের মতো নামাজ পড়তো না। স্থানীয়রা অনেকে বলছেন, সে নিয়মিত বাড়িঘরে থাকতো না। মাঝেমধ্যে আসতো আবার চলে যেত।
টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ বলেন, হামলাকারীর পিতা আতিকুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন টুকেরবাজারে মুখলেসিয়া মহিলা মাদরাসায় চাকরি করেন।
র্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারি যুবককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। আমরা সবগুলো তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি।
রাত ১টায় তিনি নগরীর রাগিব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, তার জ্ঞান ফিরেছে এবং সে কথাবার্তা বলছে, তবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। তার নাম একবার বলেছে শফিকুর রহমান, আরেকবার ফয়জুর রহমান।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, শাবি ক্যাম্পাস থেকে এখানে এনে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, এখন তাকে নিয়ে জালালাবাদ সেনানিবাসের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
র্যাব কমান্ডার আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে তার সাথে আর কেউ ছিল না। সে জাফর ইকবালকে ইসলামের শত্রু মনে করে হামলা করেছে। নিজেকে আলিয়া মাদরাসার ছাত্র বললেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও জানান আলী হায়দার আজাদ।
‘এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না, জঙ্গি গোষ্ঠী না একা, তবে সে শাবির ছাত্র নয়। অনুসন্ধান চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে’- বলেন র্যাব কর্মকর্তা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শনিবার বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠান শেষে জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়। ছুরি দিয়ে এই তাঁর মাথায় আঘাত করে হামলাকারী। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওই হামলার পরপর জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ১০টার দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট থেকে ঢাকার সিএমএইচ-এ নেওয়া হয়।
জাফর ইকবালকে হামলাকারীর পরিচয় সনাক্ত, স্বজন আটক
