স্টাফ রিপোর্টার,৪ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ ):ঢাকার ধামরাইয়ে তরুণী ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি জনি মিয়াকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকার মেরুল বাড্ডা থানার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।ধামরাই থানাধীন কাওয়ালিপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো.মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আসামি জনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার সিনাবহ গ্রামের মৃত খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে। সে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের চৌহাট গ্রামে মামা ইলিয়াস হোসেনের বাড়িতে থেকে ডিস লাইনের ব্যবসা করত। এরআগে, গত ২ মে ওই তরুণী বাদী হয়ে জনি মিয়া ও তার খালা লুৎফা আক্তারকে আসামি করে ধামরাই থানায় মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি জনি মিয়া ডিস লাইনের ব্যবসা করত। ব্যবসার সুবাদে জনির সাথে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের কয়েক বছর পর জনি ও তার খালা লুৎফা আক্তার ওই তরুণীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সেই সুবাদে বখাটে ওই যুবক শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে তা ওই তরুণী প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ধর্ষকের খালা বিভিন্ন প্ররোচনা করে ওই তরুণী ও জনিকে এক রুমে রেখে বাহিরে পাহারা দেয়। তারপর থেকে চলতে থাকে অবৈধভাবে মেলামেশা। এক পর্যায়ে ওই তরুণী যখন সন্তান সম্ভাবনা তখন বিষয়টি জনি ও লুৎফা আক্তারকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে ধামরাই থানায় ওই তরুণী বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
কাওয়ালিপাড়া তদন্ত এসআই মশিউর রহমান বলেন, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জনি মিয়া মামলা হওয়ার আগে থেকেই পলাতক ছিল। জনিকে আটক করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। জনি’র কোন ছবি ও মোবাইল নাম্বার ছিল না। এমনকি কোন আত্মীয়ের বাড়িতেও তাকে পাওয়া যায়নি। মামলার প্রধান আসামি জনিকে আটক করতে বার বার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। ধর্ষণ মামলা ছাড়াও অপহরণের মামলা রয়েছে।
এসআই মশিউর রহমান আরো বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারে জনি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
