ষ্টাফ রিপোর্টার,২৮ অক্টোবর ২০২৬ (বিবিনিউজ):ঢাকার সাভারে বায়ুদূষণ রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে আরও সক্রিয় ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বক্তারা বলেছেন, বায়ুদূষণ মকেবল পরিবেশগত সমস্যাই নয় বরং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মঙ্গলবার সাভার উপজেলা পরিষদের বিজয়-৭১ সভাকক্ষে ক্যাব আয়োজিত ‘বায়ুদূষণ হ্রাসে ইটভাটা ও পরিবহন খাতের অংশীজনদের করণীয় ও ভোক্তা সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
ক্যাব সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং সিটিজেন ক্লাবের সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্যাব সাভার উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সীমান্ত সিরাজ। মূল নিবন্ধে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বায়ুদূষণের বিভিন্ন উৎস, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায় তুলে ধরেন। তিনি ইটভাটা, যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জানান, সাভারের শিল্পাঞ্চল, ব্যস্ততম বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকায় উড়ন্ত ধুলাবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কলকারখানার নির্গমন বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। এর ফলে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিবেশ মনিটরিং এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবহন ও ইটভাটা মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক আহম্মদ একরামুল্লাহ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন আরও বেগবান করা প্রয়োজন। নিরাপদ পণ্য ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সাভার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দীপক কুমার রায়,সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম,সাভার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক জাভেদ মোস্তফা,দুপ্রকের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আলম,সাভার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ডারফিন আক্তার,সাভার কার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন,ইটভাটা মালিক সমিতির প্রতিনিধি আহম্মদ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবহন ও ইটভাটা মালিক, ব্যবসায়ী, প্রশাসন, শিক্ষক, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া রোধ, প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধ এবং ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ভোক্তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তরুণদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব। ভেজাল রোধ, ব্যবসায়িক নৈতিকতা এবং নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
উক্ত সভায় ক্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মিডিয়াকর্মী, পরিবহন ও ইটভাটা খাতের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
