করোনার প্রভাবে চরম সংকটে দিন কাটছে সাভারের মেহেদী চাষীদের

স্টাফ রিপোর্টার,২১ এপ্রিল, ২০২১ (বিবিনিউজ) : করোনা ভাইরাস ও সারা দেশে কঠোর লকডাউন থাকায় বাজারে মেহেদী পাতা বেচা কেনা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে সাভারের মেহেদী চাষীরা। মেহেদী বাগানের কাজ না থাকায় অনেক অসহায় নারীরা এখন ঘর কন্যা সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও চরম অর্থ সংকটে পরেছে তারা। সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়ন। রাজধানীর লাগোয়া এ ইউনিয়নের পঞ্চাশ ভাগ মানুষের জীবন ছড়িয়ে আছে মেহেদী পাতার চাষের সাথে। কিন্তু করোনা ভাইরাস ও দেশে কঠোর লকডাউন থাকায় মেহেদী পাতা বাজারে বেচা কেনা বন্ধ থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিক্রি না হওয়ায় মেহেদী পাতা গাছেই ঝড়ে যাচ্ছেন। আবার বৃষ্টি না হওয়ায় খড়া থাকায় মেহেদী গাছ মরে যাচ্ছে বাগানেই। সব মিলিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে এ ইউনিয়নের মেহেদী চাষীরা। বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। এদিকে অনেক চাষী মেহেদী চাষ বাদ দিয়ে গরুর গো খাদ্য হিসেবে নেপাল থেকে আনা নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন।


মেহেদী চাষীরা জানায়,বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে হাত রাঙ্গাতে মেহেদির চাহিদা বা প্রচলন সেই আদিকাল থেকেই। এছাড়া ঈদের উৎসবে হাত রাঙ্গাতে মেহেদির কোন বিকল্পই নেই। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্লারে মেহেদির চাহিদা থাকতো বছর জুড়েই। নারী-পুরুষ সবার মাঝেই এই মেহেদী ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়। আবার হাত রাঙ্গানোর পাশাপাশি মেহেদীর রয়েছে নানান ওষুধী গুণ।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত করা মেহেদী পাওয়া গেলেও ব্যবহারকারীদের কাছে চাষ হওয়া প্রাকৃতিক মেহেদী পাতার চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। মেহেদি প্রেমী বা অন্যান্য ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী,লুটেরচর,বাহেরচরসহ বিভন্ন গ্রামে বানিজ্যিকভাবে মেহেদি চাষ করে আসছিলো কৃষকরা। বেচা কেনা ভালো হওয়ায় দিনে দিনে এ জনপদে বাড়ছিলো মেহেদি চাষ। অনেক পরিবার মেহেদি চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছিলেন। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি এ ইউনিয়নের চাষিরা নানা প্রজাতির ফুল ও লাভজনক ফসলের চাষে করেছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মেহেদী পাতা বেচা কেনা বন্ধ থাকায় তারা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন।
মেহেদী চাষীরা জানায়, মেহেদি চাষে উৎপাদন খরচ কম। প্রতিমাসে কীটনাশক ছাড়া আর কোনো খরচ হয় না। একবার চারা লাগানোর পর গাছ বাঁচে ১০ থেকে ১৫ বছর। বাগান থেকে পাতা কাটা হয় তিনবার। বাজারে মেহেদী পাতার আঁটি পাঁচ’শ টাকা দরে বিক্রি হতো।
এবিষয়ে সাভার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজিয়াত আহমেদ বলেন,এবার এ উপজেলায় কয়েক’শ হেক্টর জমিতে মেহেদী চাষ হয়েছে। মেহেদী চাষীদের উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও বলেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment