দিয়া ইসলাম , ঢাকা , ২১ নভেম্বর : টানা তিন ম্যাচ হারের পর অবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরে দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখলো রংপুর রাইডার্স। টুর্নামেন্টের ২২তম ও দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সিলেট সিক্সার্সকে ৭ রানে হারিয়েছে মাশরাফির রংপুর। ৫ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে উঠলো রংপুর। আর ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে থাকলো সিলেট।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন সিলেটের অধিনায়ক নাসির হোসেন। প্রথম ব্যাট হাতে নামার সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগান টি-২০ ক্রিকেটের ভয়ংকর দুই ব্যাটসম্যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এবারের বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও আজ ২২ গজে সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেন গেইল-ম্যাককালাম। উদ্বোধণী জুটিতে ৫২ বলে ৮০ রান যোগ করেন গেইল-ম্যাককালাম।
নাসিরের পরিকল্পিত বোলিং-এর সামনে শুরু থেকে গেইল নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১২ বল থেকে ১৮ রান তুলে নেন ম্যাককালাম। এসময় গেইলর রান ছিলো ১৩ বলে ১ রান। নিজের ১৪তম বলে ছক্কা হাকিয়ে তেতে উঠেন গেইল। এরপর ৫টি ছক্কা হাকিয়েছেন তিনি। ২১ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৩ রান করে ম্যাককালাম ফিরে গেলেও, ৩৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন গেইল। অর্ধশতক পুর্ন হওয়ার পরের ডেলিভারিতেই থেমে যান গেইল। তার ইনিংসে ২টি চারও ছিলো।
১০ দশমিক ৪ ওভারে ৮৮ রানে গেইল আউট হবার পর রংপুরের রানের গতি থমকে যায়। তারপরও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রবি বোপারার ১২ বলে ২৮, মোহাম্মদ মিথুনের ২১ বলে ২৫ ও শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা ১২ বলে ১৫ রানের সুবাদে ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর। সিলেটের আবুল হাসান ২টি উইকেট নেন।
১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যটা শুরুতে কঠিন হয়ে গিয়েছিলো সিলেটের। কারন ৪ ওভারে ২৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ৮ রান করা শ্রীলংকার দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে সোহাগ গাজী, ২ রান করা পাকিস্তানের বাবর আজমকে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচারকে ১২ রানে থামিয়ে দেন রুবেল হোসেন।
দ্রুতই ৩ উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেন সিলেটের অধিনায়ক নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমান। ঠান্ডা মাথায় ঝুঁিক না নিয়ে স্কোর বোর্ডে রান জড়ো করছিলেন তারা। রান তোলায় পারদর্শীতা দেখিয়েছেন সাব্বির। আপার কাট-প্যাডেল সুইপে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি তুলে নেন সাব্বির। এতে লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়েন রংপুরের বোলাররা। পাশাপাশি কুয়াশায় বল ভিজে যাওয়ায় ঠিকমত গ্রিপ করতে না পারার সমস্যাতেও ভুগেছে রংপুরের বোলাররা। এই সুযোগে বেশ সহজে রান তুলে ভালোভাবেই ম্যাচের লাগাম নিয়ে নেয় সিলেট।
সাব্বিরের হাফ-সেঞ্চুরির সাথে নাসিরের বুদ্ধীদিপ্ত ইনিংসে ১৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রানে পৌছে সিলেট। তাই শেষ ২৪ বলে ৩৫ রান দরকার পড়ে সিলেটের। তবে ম্যাচের ১৭তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে রংপুরকে খেলায় ফেরান মাশরাফি। পুরো ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ৪ ওভার ১৮ রান ১ উইকেট।
অধিনায়কের ঐ ওভারে উজ্জীবিত হয়ে উঠে রংপুরের বোলাররা। তাই পরের ওভারেই সাব্বির-নাসিরের জুটিতে ভাঙ্গন ধরান শ্রীলংকার পেরেরা। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৯ বলে ৭০ রান করেন সাব্বির। চতুর্থ উইকেটে নাসিরের সাথে ৮২ বলে ১১৭ রান যোগ করেন সাব্বির।
নাসির-সাব্বিরের দুর্দান্ত জুটির পরও জয় বঞ্চিত হয় সিলেট। কারন মাশরাফির করা শেষ ওভারের পর থেকেই বদলে যায় রংপুরের ভাগ্য। শেষ তিন ওভারে পেরেরা-রুবেল ২৫ রান দিয়ে সিলেটকে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের মধ্যে আটকে রাখেন। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৪৩ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন নাসির। ম্যাচের সেরা হয়েছেন রংপুরের গেইল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
রংপুর রাইডার্স : ১৬৯/৭, ২০ ওভার (গেইল ৫০, ম্যাককালাম ৩৩, আবুল ২/২৪)।
সিলেট সিক্সার্স : ১৬২/৪, ২০ ওভার (সাব্বির ৭০, নাসির ৫০*, সোহাগ ১/৬)।
ফল : রংপুর রাইডার্স ৭ রানে জয়ী।
অবশেষে জিতলো রংপুর
