মানিকগঞ্জে হাটে প্রচুর নৌকা


১৪ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ ) : মানিকগঞ্জে যতগুলো নৌকার হাট রয়েছে, তার মেধ্যে ঘিওর হাট অন্যতম। প্রতি বুধবার ঘিওর সাপ্তাহিক হাট। সকাল থেকেই নৌকা কেনাবেচা জমে ওঠে। এছাড়া প্রতিদিনই নৌকা কেনাবেচা হয়ে থাকে। তবে পানি না বাড়ায় নৌকার চাহিদা বাড়েনি, তারপরেও ঘিওর হাটে প্রচুর নৌকা উঠেছে বিক্রির জন্য।

বুধবার সরেজমিন হাটে দেখা যায়, ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি। কেনাবেচা কম হলেও এসময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে। স্থানীয়রা জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ঘিওর নৌকার হাট। ঘিওর সরকারি কলেজ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে একশত বছর ধরে নৌকা বেচাকেনা হয়ে আসছে।

মানিকগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের নাগরপুর, ঢাকা জেলার সাভার ও সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে নৌকা ক্রয়-বিক্রয় করতে লোকজন এই হাটে আসে। মহাদেব সুত্রধর, নিপেন সুত্রধর, আলমগীর, মেগাসহ অনেকেই জানান, আমাদের বাব-দাদারা নৌকা তৈরি করে এই হাটে বিক্রি করতো। আমরাও তাই করছি।
তারা আরও বলেন, কয়েকদিন আগে নদীতে পানি বাড়ছিল, তখন নৌকার চাহিদাও ছিল। পানি কমায় চাহিদা কমেছে, সেই সাথে কমেছে দাম। এ হাটে মূলত নৌকা বলতে ডিঙি নৌকা কেনাবেচা হয়। প্রকার ভেদে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত একেকটি ডিঙি নৌকা বিক্রি হয়। সাধারণত মেহগনি, কড়ই, আম চাম্বল ও রেন্ট্রি গাছের কাঠ দিয়ে নৌকাগুলো তৈরি করা হয়।

বিক্রেতারা জানায়, অনেক জায়গায় পানি বাড়লেও মানিকগঞ্জে এখনো বর্ষাই হয় নাই। এ কারণে নৌকার বিক্রি কম। তবে পানি বাড়ার সঙ্গে নৌকার চাহিদা বাড়বে।

মো. আব্দুল হক ও পান্নুমিয়া বলেন, আজ নৌকার দাম একটু কম। গত হাটে যে নৌকা ৪ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, আজ সে নৌকা ৩ হাজার টাকা। একটু কম দামে নৌকা কিনে তারা খুশি।

ঘিওর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এ হাটে খাজনা বেশি। শতকারা ৫ টাকা। একটি নৌকা ৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনলে ২৫০ টাকা খাজনা দিতে হয়। এটা কমানো উচিত।

ঘিওর হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি মাকসুদুর রহমান মাসুম বলেন, জেলার অন্য হাটের তুলনায় এই হাটে খাজনা কম। এমনিতেই নৌকা বিক্রি অনেক কমে গেছে, তাই খাজনা কমানো সম্ভব নয়।

Related posts

Leave a Comment