ষ্টাফ রিপোর্টার,২০২০(বিবিনিউজ):স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সাভারের পৌর এলাকার গেণ্ডা মহল্লায় তিন দিন ধরে অনশন করে শ্বশুরবাড়িতে বসে আছেন এক গৃহবধূ। এদিকে বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে ওই গৃহবধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
ভিকটিম মেয়েটির নাম শান্তা ইসলাম। তিনি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কৃষ্ণনগর খালপাড়ার আবুল হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী একটি দূরপাল্লা যাত্রীবাহী বাসের সুপার ভাইজার।
মামলার এজাহার সূত্রে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে শান্তা ইসলামের সঙ্গে সাভারের জহিরুল ইসলাম সাগরের ফেসবুকে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি বাড়িতে তাঁদের বিয়ে হয়। এরপর ওই গৃহবধূ বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে নগদ দুই লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে সাভারের শ্বশুরবাড়িতে উঠেন। এর কিছুদিন পর ওই গৃহবধূকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুর। পরে ওই গৃহবধূ শান্তা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি রাজধানীর মিরপুরে গিয়ে রাস্তায় কান্নাকাটি করছিলেন। এ সময় খাদিজা আক্তার নামের এক নারী তাঁর বাড়িতে শান্তাকে আশ্রয় দেন।
পরে গৃহবধূ শান্তা গত ২১ নভেম্বর স্বামীর বাড়িতে আসেন। কিন্তু তাঁর স্বামী জহিরুল ইসলাম সাগর, শ্বশুর নজরুল ইসলাম ও শাশুড়ি খুরশীদা বেগম বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে শান্তা ওই বাড়ির বারান্দায় আমরণ অনশন শুরু করেন। তিন দিন ধরে কিছু না খেয়ে তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূ শান্তা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস চেয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
এ ঘটনায় গৃহবধূ শান্তা সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই গৃহবধূর স্বামী অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
