
জুলিয়া পারভেজ, টাঙ্গাইল ,১৯ জুলাই,২০১৯(বিবিনিউজ): শুক্রবার সকালে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তারাকান্দি সড়কের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব সভাপতি
জাফর আহমেদ, ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম এডভোকেট, গোপলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন কালে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব সাংবাদিকদের জানান, যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পানিতে তলিয়ে গেছে ভূঞাপুর উপজেলাসহ গোপালপুর, ঘাটাইল,কালিহাতীর কয়েকশ গ্রাম। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি পুকুরের মাছ। নষ্ট হয়েছে লাউ,কুমড়া, ঢেড়শ ও অন্যান্য শাকসবজির বাগান। বন্যায় ভেসে গেছে
পাটের জাগ গবাদি পশুর খাদ্য খড়ের পালা। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঠাঁই নিয়েছে উঁচু যায়গায় সড়কগুলোতে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি কিন্ডার গার্টেন সম্পুর্ন বিলীন, টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভেঙে গর্তে পরিনিত হয়েছে। ভাঙনের কারণে বিদ্যালয় মাঠ পুকুরে পরিনত হয়েছে। একই দিন সন্ধায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক ভেঙে প্রায় কয়েক‘শ, গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তীব্র প্রবাহে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বসতভিটা। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় হুমকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ন সড়কটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ রক্ষায় কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসী চেষ্টা করেও বাঁধটি রক্ষা করতে পারেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কথা জানালেও অধিকাংশ বানভাসি মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভূঞাপুর পৌরসভার ভূঞাপুর-তাড়াকান্দি সড়কের টেপিবাড়ির অংশ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।
টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম
জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা৷
