পীরগাছায় গৃহবধূর হত্যাকারী স্বামী ও শাশুড়ী

mapরংপুরের পীরগাছায় নিহত গৃহবধূ আয়শা বেগম বিউটির (৩০)হত্যাকারী স্বামী ও শাশুড়ী। তাদের সোমবার গ্রেফতারের পর আদালতে ৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী দছিম উদ্দিন ভূট্টু ও শাশুড়ী উম্মে কুলছুম।
আদালতে ৬৪ ধারায় স্বামী ও শাশুড়ীর দেওয়া জবানবন্দীর কথা উল্লেখ করে পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামের দছিম উদ্দিন ভুট্টুর সঙ্গে তার স্ত্রী আয়শা বেগম বিউটির যৌতুক নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১জুন বিকালে একই ঘটনা নিয়ে আবারো স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের এক পর্যায়ে স্বামী দছিম উদ্দিন ভূট্টু স্ত্রী আয়শা বেগম বিউটিকে তলপেটে ঘুষি মারে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে গুম করার উদ্দেশ্যে লাশ বাড়ির গোয়াল ঘরে রেখে দেয়।
তিন দিন গোয়াল ঘরে থাকার পর লাশের গন্ধ বের হলে স্বামী ভুট্টুসহ পরিবারের লোকজন লাশের শরীরে কাপড় পেঁচিয়ে তাদের নিজ পাটক্ষেতের ভিতরে ফেলে রাখে।
পরে সাত দিন ধরে স্বামী ও বিউটির পরিবারের লোকজন বিউটিকে খুঁজতে থাকে। হত্যার সাত দিন পর গত ৭ জুন এলাকার লোকজন পাট ক্ষেতে অর্ধ গলিত একটি লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থল থেকে ওই দিন রাত ৮ টার দিকে পুলিশ অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা লাশটি বিউটির বলে চিহ্নিত করেন।
এ ঘটনায় স্বামী দছিম উদ্দিন ভুট্টুসহ পরিবারের ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলা দায়েরের পর এজাহার নামীয় সকল আসামিকে গ্রেফতার করেন। নিহত আয়শা বেগম বিউটি দুই সন্তানের জননী বলে জানা যায়।
আয়শা বেগম বিউটির পরিবার জানায়, আয়শা বেগম বিউটির ছোট বোনের বিয়েতে একটি মোটর সাইকেল উপহার দেয় বিউটির পরিবার। পরে একই উপহার দাবি করে আসছিল আয়শা বেগম বিউটির স্বামী দছিম উদ্দিন ভুট্টু। দাবিকৃত উপহার না পেয়ে স্বামী ও পরিবারের লোকজন আয়শা বেগম বিউটিকে হত্যা করে।
পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, বিউটি হত্যার সঙ্গে জড়িত স্বামীসহ পরিবারের ১০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ৬৪ ধারায় বিউটির স্বামী ও শাশুড়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment