নাটোর, ২৯ নভেম্বর : নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল সেন্ট লুইস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জোনাইল ধর্মপল্লীর সহকারী পাল-পুরোহিত ফাদার ওয়াল্টার উইলিয়াম রোজারিও (৪০) এখনও নিখোঁজ। এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিখোঁজ ওয়াল্টারের ভাই বিমল রোজারিওকে মোবাইলে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই সময় ওয়াল্টারের বাড়িতে স্বয়ং নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার সহ পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশের একটি বিশেষ টীম রাতভর বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েও ফোন কলের নেপথ্যের ব্যক্তিদের সন্ধান পাননি।
বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নাটোর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই জানান, ওই চক্রটি মূলত একটি প্রতারক চক্র। তারা ফাদার ওয়াল্টার নিখোঁজ হওয়াকে পুঁজি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছে মাত্র।
তবে গোয়েন্দা পুলিশ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ফাদার ওয়াল্টারকে উদ্ধারে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডিবি’র ওই ওসি।
এদিকে সাত ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ফাদার ওয়াল্টারের নিখোঁজ হওয়া বা তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা। মা ৭৭ বছর বয়সী পাত্রিশিয়া গোমেজ ঘরের মধ্যে সাজানো প্রার্থনার বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত তার সন্তানের সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য ধ্যান ও প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। বনপাড়া ও জোনাইল সহ ৪টি ধর্মপল্লীতে বিশেষ প্রার্থনাও করা হয় তার জন্য।
বনপাড়া ধর্মপল্লীর প্রধান পাল-পুরোহিত ফাদার বিকাশ হিউবার্ট রীবেরু জানান, তার জানা মতে ফাদার ওয়াল্টারের সাথে কারো কোনো শত্রুতা নেই। তিনি উদ্ধার কাজে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরো বলেন, নিশ্চয়ই ফাদার ওয়াল্টার আমাদের মাঝে সুস্থভাবেই ফিরে আসবেন।
বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হারুণ-অর-রশিদ জানান, ফাদার ওয়াল্টারকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা দিন-রাত অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফাদার ওয়াল্টার উপজেলার জোনাইলে তার কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে বনপাড়া পৌর শহরের মিশন পাড়া এলাকার মৃত সিলভেস্টার রোজারিও’র ছেলে।
