ঢাকা, ৭ নভেম্বর : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল তাঁর রাজনৈতিক সাধনার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কোনো দিন পাকিস্তান ভিত্তিক রাজনীতি করে নাই। তিনি বাংলাদেশ ভিত্তিক রাজনীতি করেছেন। তার প্রতেকটি পদক্ষেপ পাকিস্তান বিরোধী ও স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল তাঁর সারা জীবনের লালিত স্বপ্ন। তিনি সারা জীবন যে চিন্তা করেছেন তা ৭ মার্চের ভাষণে বলেছেন।
শিল্পমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ-বিশ্ব ইতিহাসের অনন্য দলিল’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুনুর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দিন পাকিস্তানে বিশ্বাস করেন নাই। তিনিই প্রথম পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ গঠন করেন। তিনি ছাত্রলীগকে দিয়ে পাকিস্তানব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করে নাই। তিনি ছাত্রলীগকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তার রাজনৈতিক সাধনার প্রকাশ ঘটেছিল ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে।
এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযুদ্ধেও সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, দৈনিক এশিয়ানএজ এর সহ সম্পাদক বদরুল এহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের জনগণকে যেভাবে আত্মিকভাবে গ্রহণ করেছিল আর জনগণ কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে প্রহণ করেছিল তা এই ভাষণের মধ্যে ফুটে ওঠেছে। আর তা ছিল অকল্পনীয়। বঙ্গবন্ধুর মাঝে বাঙালি আস্থা খুঁজে পেয়েছিল। তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা দরকার সব তৈরি করেছেন।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তার সবকিছুর মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। অন্য কোনো দলের অবদান ছিল না।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনে যে চ্যালেঞ্জ এসেছিল তা থেকে আমরা অনুপম পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি আমাদের স্বাধীনতার গ্রীন সিগন্যাল ছিল। এ ভাষণটি একটি কার্যকরী ভাষণ ছিল।
অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি জাতি-জনগোষ্ঠীর মুক্তির কালজয়ী সৃষ্টি, এক মহাকাব্য। বহুমাত্রিকতায় তা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। শুধু বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্ব মানবতার জন্যও অবিস্মরণীয়, অনুকরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল। ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এটিই স্বীকৃত হয়েছে।
গোলাম সরওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে স্বশস্ত্র অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালিকে ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার নাতিদীর্ঘ ভাষণে বাঙালি যেভাবে লড়াই করেছে এই রকম ইতিহাস পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। তিনি ৭ মার্চের ভাষণটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেন। যার প্রথমটি ছিল স্বাধীনতা, দ্বিতীয়টি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে কড়া সতর্ক বার্তা।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাধনার বহিঃপ্রকাশ : শিল্পমন্ত্রী
