নাটোরে ওএমএস কর্মসূচিতে প্রতিদিন ৫ হাজার ২শ’ মানুষ চাল পাচ্ছেন

calনাটোর, ২১ সেপ্টেম্বর : খাদ্য শস্যের বাজার মূল্যের উর্ধ্বগতির প্রবনতা রোধ, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা প্রদান এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নাটোরে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ২০০ মানুষের মাঝে ৩০ টাকা কেজি দরে মাথপিছু ৫ কেজি করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। জেলা শহর, উপজেলা ও উপজেলা সদর বহির্ভূত পৌর এলাকায় ওএমএস কর্মসূচীর এই কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার প্রতিদিন ভর্তুকি প্রদান করছে প্রায় পৌনে তি নলাখ টাকা।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার থেকে জেলা শহরে ১৫জন ডিলারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্রে এক টন করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে জেলার জেলা সদর ব্যতিত অন্য ছয়টি উপজেলার ১৮টি কেন্দ্রে এবং উপজেলা সদর বহির্ভূত একটি পৌরসভার ৩টি বিক্রয় কেন্দ্রে এক টন করে চাল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমে একজন ব্যক্তি ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল কিনতে পারছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন সারা জেলায় মোট ২৬টি বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ২৬ টন চাল বিক্রি করা হচ্ছে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন এই কার্যক্রম চলবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, ডিলার পর্যায়ে ২৮.৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রিত চালের অর্থনৈতিক ক্রয়মূল্য ৩৯ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ১০.৫০ টাকা ভর্তুকি হিসেবে ২৬ টনে সরকারের ভর্তুকি যাচ্ছে দুই লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
শহরের উত্তর পটুয়াপাড়া, চকরামপুর, বঙ্গজল, কান্দিভিটা, বড়গাছা, নীচাবাজার, কানাইখালী, হাফরাস্তা, দক্ষিণ বড়গাছা, পিটিআই মোড়, তেবাড়িয়া, মল্লিকহাটি, হরিশপুর, বনবেলঘড়িয়া এবং কানাইখালীর শহীদ সেলিম সড়কে পর্যায়ক্রমে বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। বাজারমূল্য অপেক্ষা ওএমএস কর্মসূচীতে চালের বিক্রি মূল্য কম থাকায় ক্রেতারা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। পিটিআই মোড় চাল বিক্রয় কেন্দ্রে দেখা যায়, চাল কিনতে এসেলাইনে দাঁড়ানো পুরুষের চেয়ে নারীদের লাইনের পরিধি বড়। লাইনে দাঁড়ানো গৃহিনী আলেকা খাতুন, ফিরোজা বেওয়া, রিকশাচালক আফতাব উদ্দিনসহ অন্যান্যরা জানান, বাজার দর বেশি হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে সরকারী চাল কিনছি। এই চাল বিক্রি চালু রাখলে চালের বাজার দর কমে যাবে বলে তাদের অভিমত।
ওএমএস কার্যক্রম চালু এবং নাটোরের গুরুদাসপুর ও লালপুর উপজেলায় চালের মিলগুলোতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার ফলে বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। নাটোরের খুচরা বাজারে বর্তমানে মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, মাঝারী চাল ৫০ থেকে ৫১ এবং চিকন চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিগত দুই-তিন দিনে এই দর গড়ে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ী মিঠু কুমার দাস। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের সুফল ক্রেতারা বাজারে পাবেন বলে ধারনা পোষন করে মিলমালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রব খান চৌধুরী আলেম বলেন, ব্যাংকে লভ্যাংশের হার কমে যাওয়াতে কিছু ব্যবসায়ী এবং বড় কৃষক ধান-চাল মজুদ করায় এবং সময়মত এলসি খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার ফলে বাজারে চালের দর বেড়েছে।
অচিরেই ওএমএস কর্মসূচী চালুর ইতিবাচক প্রভাব চালের বাজারে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মনিরুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বাসসকে বলেন, চালের বাজার দরে স্থিতিশীলতা আনতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
দিয়া ইসলাম / বিবি নিউজ / ১৪৮

Related posts

Leave a Comment