স্টাফ রিপোর্টার, বিবি নিউজ সার্ভিস, ০৮ জুন : আগামীতে দেশে এক এগারোর মতো দুর্যোগ আর আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এক এগারোর সময় সারাদেশে ছিল আতঙ্কের পরিবেশ। তখন গণতন্ত্রকে বুটের তলায় পিষ্ট করা হয়েছে। চারদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যায় আর নির্মম নির্যাতনের ছোবল।
বুধবার (০৮ জুন) সকালে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংরতি সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ১৫ এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক এগারোতে যারা আমাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল, তারাই মাইনাস হয়ে গেছে। এটা আসলে মাইনাসে-মাইনাসে প্লাস হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমি বলতে চাই না।
ভবিষ্যতে এক এগারোর মতো দুর্যোগ আর আসবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে।
এক এগারোর সময় ২৫ লাখ গণস্বার দিয়ে যারা গণতন্ত্র আনতে সহায়তা করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় অনির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আমার কাছে বারবার আপোসের প্রস্তাব আসে। আমি প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করেছি এবং বলেছি একটি সুষ্ঠু নিরপে জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আমি আলোচনা করতে রাজি নই।
দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই আমার দরকার। ওইভাবে পুতুলের মতো বসে থাকলে শুধু একটা কাঠপুতুল নিয়ে বসে থাকবো। শুধু এ সুযোগের জন্য। এ সুযোগ তো আমি নিতে পারতাম। আমি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। আমি নিজেও প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। সেখানে আমার যদি এসব সুখ সম্পদের প্রতি নজর থাকতো, তাহলে তো আমি সেই দিনেই নজর দিতাম। আমি তো তা করিনি। আমি দেশের উন্নতি করেছি। আমি দেশের উন্নতি করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। কাজেই আমি নির্বাচন চাই। নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে সেটাই মেনে নেবো।
ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমানুষের তীব্র আন্দোলন সংগ্রামের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার লেজ গোটাতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ই জুন আমি মুক্ত হই। আবার এ নতুন সূর্য উদিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতা এবং কারাগার খুব পাশাপাশি থাকে। এটা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। তাই কখনো এটা ভয় করি না। কারণ বাংলাদেশে আসার পর থেকে যখনি আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। বারবার আমাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। অনেক সময় মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কখনো আমি পিছিয়ে যাইনি।
এক এগারোর সময় দেশের জনগণ, প্রবাসীসহ আওয়ামী লীগের নেতার্কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিল, সেই সভায় আমাদের প্রত্যেক অঞ্চলের নেতারা যেভাবে দাবি তুলেছিলেন মুক্তির, তাদের সেই তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরাট একটি মনোবল সৃষ্টি করে এবং জনমত সৃষ্টি হয়।
