দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ দরিদ্র ও বঞ্চিত

manসরকারের পরিসংখ্যানিক অর্থনীতি যাই বলুক না কেন, গবেষণা বলছে দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৬ ভাগ অর্থাৎ ১০ কোটি ৫৫ (৬৬ ভাগ) লাখ মানুষই দরিদ্র ও বঞ্চিত। ৩১ দশমকি ৩ ভাগ অর্থাৎ ৫ কোটি ১ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত। আর ২ দশমিক ৬ ভাগ অর্থাৎ ৪৪ লাখ মানুষ ধনী। বিগত তিরিশ বছরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখে। দরিদ্র জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি জাতীয় উন্নয়ন ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর চেম্বার মিলনায়তকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনীতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোরশেদ হোসেন বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় অর্থনীতি সমিতির সদস্য রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের লেকচারারা হাবিব রহমান, সদস্য কারমাইকেল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন্নাহার বেগম, সদস্য জুলফিকার আলী, এসএম রেজাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিকল্প কাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, গত ৪০ বছরে অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এবং গবীর ও মধ্যবিত্তের স্বার্থবিরোধী রাজনৈতিক-অর্থনীতি নির্ভর উন্নয়ন ধারা বাংলাদেশে গ্রাম ও শহরে শ্রেণীকাঠামো বদলে দিয়েছে। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের দশা হয়েছে বেহাল আর অঢেল বিত্ত-সম্পদ ও ক্ষমতা পুঞ্জিভূত হয়েছে গুটিকয়েক ধনীক শ্রেণীর হাতে।

বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রীর খসরা বাজেটের বিপরীতে দ্বিগুনেরও বেশী ৮ লাখ ৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাজস্ব আয় থেকে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা এবং ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, বিদেশে বসরবাসকারী দেশীয় নাগরিকদের বন্ড, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ এবং দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আসবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থনীতি সমিতি তাদের বাজেট অর্থায়নে কোনো বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিকল্প বাজেটে মোট বরাদ্দ ও আনুপাতিক বরাদ্দ উন্নয়ন বাজেট হবে অনুন্নয়ন বাজেটের উল্টো। এখন উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দের অনুপাত ৩৫:৬৫। আর অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেটে সেটা ধরা হয়েছে ৭২: ২৮। এতে উন্নয়ন বরাদ্দ এখনকার তুলনায় ৬ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায় এবং অনুন্নয়ন বরাদ্দ এখনকার তুলনায় ১ দশমকি ২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকায় উন্নিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থনীতি সমিতির বাজেটে বিদেশী নাগরিকদের ওপর কর, সেবা থেকে কর প্রাপ্তি, সম্পদ কর, বিমান ও ভ্রমণ কর, ভ্রমণ কর, তার ও টেলিফোন কর, টেলিকম রেগুলটরি কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিআইডাব্লিউটিএ, সরকারি স্টেশনরাী বিক্রয় কর ও পৌর হোল্ডিং কর মোট ১৩টি নতুন করের উৎসের প্রস্তাবনা করা হয়েছে।

অর্থনীতি সমিতি তাদের বিকল্প বাজেটকে দেশের মাটি থেকে উত্থিত বৈষম্য হ্রাসকারী উন্নয়ন দর্শনভিত্তিক দলিল হিসেবে দাবি করেছেন বিকল্প বাজেট পেশ আলোচনায়।

Related posts

Leave a Comment