ষ্টাফ রিপোর্টার,২৯ আগস্ট ২০২০(বিবিনিউজ): কুয়েতে ঢাকার ধামরাইয়ের মামা ও মেয়ে নির্মম ভাবে খুন হয়েছেন দুর্বৃত্তদের হাতে । এঘটনায় নিহত মা ও মেয়ের ধামরাই এলাকায় নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সংসারের একমাত্র উপারজনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ফেলে দিশে হারা হয়ে পড়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়,গেল পচিশ বছর আগে সংসারের অভাব গোচাতে ঢাকার ধামরাইয়ের নতুন দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শিকদারের স্ত্রী মমতা বেগম (৫৬) কুয়েতে একটি কোম্পানীতে চাকুরী করতে যান। পরে ওই নারী তিনি ধীরে ধীরে ওই কোম্পানীতে শক্ত অবস্থান করে নিলে মালিকপক্ষ তার কাজে কর্মে সন্তষ্ট হয়ে বেতন বাড়িয়ে দিলে তিনি তার বেতনের টাকা দিয়ে ধামরাইয়ে একটি দোতলা বাড়ি করেন।

পরে ওই নারী ওই কোম্পানীতে ভালো বেতন পাওয়ায় তার মেয়ে স্বর্ণলতাকে (৩২) তিন বছর আগে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে নিয়ে ওই কোম্পানীতে চাকুরী দেন। সেই কোম্পানীতে মা ও মেয়ে চাকুরী করে ভালোই চলতো তাদের সংসার। ওই কোম্পানী থেকে কুয়েতের হাসাবিয়া শহরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো মামা ও মেয়ে। পরে ওই কোম্পানীতে চাকুরী করা যশোরের ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয় মমতা বেগমের মেয়ে স্বর্ণলতার সাথে। পরে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক থেকে স্বর্ণলতার সাথে রফিকুলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো ২৮ আগষ্ট গেল শুক্রবার। মেয়ের বিয়ের জন্য খরচ ও ধামরাইয়ে সংসারের খরচের জন্য গেল মঙ্গলবার কুয়েতের একটি ব্যাংক থেকে দশ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন মা মমতা বেগম। পরে টাকা উত্তোলনের পর থেকেই মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ হন মা মমতা বেগম ও মেয়ে স্বর্ণলতা। পরে গতকাল শুক্রবার মামা ও মেয়ের ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা কুয়েত পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে মামা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। এমময় তাদের ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। এদিকে নিহত মামা ও মেয়ের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মামা ও বোনের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন নিহত নারী মমতা বেগমের ছেলে এজাজ আহমেদ শিকদার তিনি বলেন সরকার যেন দ্রুত আমার মা বোনের লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

কুয়েতে মামা ও মেয়েকে হত্যার কথা শুনে শনিবার বিকেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে শান্তনা দেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্য ওসি দীপক চন্দ্র সাহা ।
কুয়েতে খুন হওয়া ওই নারী ও তার মেয়ের লাশ দ্রুত বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত মেজর জেনারেল (অব,) আসিফ, মুঠোফোনে তিনি এটিএন বাংলাকে বলেন কারা এ নির্মম ভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ও খুনিদের আটকের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কুয়েত পুলিশ।
এবিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন,কুয়েতে মামা ও মেয়ের হত্যার বিষয়টি আমি শুনেছি বিষয়টি সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
