
সাভার, শেখ এ কে আজাদ(বিবিনিউজ):সাভারে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাসুদা শিখা তার ফেসবুক শেয়ারে লিখেছেন বর্জ্য নিয়ে বাড়ি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয় দিনের পর দিন,মাসের পর মাস এ যেন সাভারে যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়, কমছেনা দূর্গন্ধ।চলাচলকারী শিশু-কিশোর,যুবক-যুবতী, নারী- পুরুষ অসহায়।
দৃষ্টি কারে না স্থানীয় ও উর্দ্ধত্বন কর্তৃপক্ষের ।এ মহান উদ্যোগ কে নিবেন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন বেশীরভাগ নাগরিক সমাজ?
মাসুদা শিখা তার ফেসবুক থেকে শেয়ার করা হুবহুব নিম্নে তুলে ধরা হলো -সাভার বাজারে এসেছিলাম গতরাতে। পার্কিং এরিয়া নাই। নামতে হয় যেখানে যাবো, তার সামনে। চৌরঙ্গীর সামনের এই অবস্থা। এখানেই বর্জ্য ফেলছে, ওখানেই পেসাব করছে, এখানেই কয়েক হাত দুরে বসে ফল বিক্রী করছে, এখানে এই বর্জ্যের উপর দিয়ে পা ফেলে যেতে হবে মার্কেটে।
আমাদের বাসার সামনে গেন্ডা মিউনিসিপ্যালিটির অফিস। তার দেয়াল ঘেষে রাস্তার অপজিটের দোকানগুলো বস্তা বস্তা পচা বর্জ্য রেখেছে। ঝাট দিয়ে মিউনিসিপ্যালিটির দেয়ালেই ঠেকিয়ে রাখে। কোন সম্মানই যেন নেই মিউনিসিপ্যালিটি উর্ধতন কর্তাদের। একটা নোটিশ যদি দেয়া হয় এভাবে যে, যার দোকানের সামনে এরকম বর্জ্য পাওয়া যাবে তাকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হবে, তাহলে সবাই পরিষ্কার রাখতো।
যার শহর ক্লীন রাখার দায়িত্ব, তিনি কি পারছেননা আর এই কাজ করতে???? তাইলে কাজটা ছেড়ে দিননা!!!!! অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে নিজে অব্জার্ভ করুন স্বশরীরে প্রতিদিন, বাদশাহ হারুন অর রশীদের মত।
—সাভার এখন বর্জ্যের শহর হয়ে গেছে। এখানে একটা বিরাট পৌরভবন আর মেয়র রয়েছেন। যেদিকে তাকানো যায়,সেদিকে বর্জ্য জমে রয়েছে। সরানো হয়না দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। সাভারে হোটেলগুলো থেকে রাতে মুর্গীর নাড়িভূড়ি থেকে শুরু করে মাছের অবশিষ্টাংস ফেলা হয় রাস্তার উপর, আর ফেলা হয় পঁচা ফল আর ফলের কার্টুন। বাজার স্ট্যান্ডের ওভার ব্রীজের সিড়িগুলোতে বর্জ্য ফেলে তা ব্যাবহারের অনুপোযোগী করে ফেলা হয়েছে ইতিমধ্যে।
সাভার থেকে গাবতলী পর্য্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ছিল জলাধার। পশ্চিম দিকের জলাধার দখল করেছে মধুমতি মডেল টাউন। আর পূর্বদিকের জলাধার বন্ধ করা হয়েছে মাঝরাতে সমস্ত ঢাকা শহরের বর্জ্য দিয়ে। অথচ বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট খুব সহজ একটা কাজ।
পরামর্শ:-
বর্জ্যকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে কাজে লাগালেই হলো। যার যার বর্জ্য সে ভাগ করে রাখবে। প্লাস্টিক, পলিথিন, রাবার এগুলো রি সাইক্লিং এর জন্য আলাদা রেখে দিবে। কাগজ, ঠোঙা, কাগজের প্যাকেটও রি সাইক্লিং করার জন্য আলাদা করে রেখে দিতে হবে। জৈব বর্জ্য, মুর্গী, মাছের অবশিষ্ট পানিতে ফেললে মাছের খাদ্য হবে। আর শাক সব্জীর খোসা মাটিতে গর্ত করে রেখে দিলে হবে জৈব সার। ফলের খোসা মাটিচাপা দিয়ে রাখলেই হবে। যদি মিউনিসিপ্যালিটি ইচ্ছে করে, তাহলে জৈব সারের জন্য একটা জায়গা করে সেখানে সব্জীর খোসা দিয়ে বানাতে পারে, বাজারজাত করতে পারে সরকার।
দেখা:-
গাজীপুরের মত বর্জ্য আমি কোথাও দেখিনি। ওখানে সুন্দর করে বানানো রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ডের উপর বর্জ্য ফেলে মানুষ। কিন্তু দোকান গুলোতে ঢোকার পথ অন্ততঃ খালি রাখে।
কিছুদিন পূর্বে দেখলাম একটা মহিলা আর একটা আধাবয়সী পুরুষ ক্লীনার লম্বা ঝাঁটা হাতে খুব ধীরে ধীরে রাস্তার মাঝখানটা ঝাড়ু দিচ্ছে, অথচ সেখানে কোন বর্জ্য নাই। ওদের পিছনে উঁচু ফুটপথ আর নীচুরাস্তা যে ৯০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেল তৈরী করেছে, সেখানে বস্তা বস্তা এরকম বর্জ্য।
রাজিশাহীতে দেখেছি বিড় সড়কের ধারে কিছুদুর পর পর বেশ উঁচু দেয়াল ২০/২৫ ফুট লম্বা, ৮ ফুট উঁচু। তার ঐ পাশে সকালে বর্জ্য ফেলা হয়, সারাদিন গরু, ছাগল কুকুর,বিড়াল, কাকসহ অন্য পাখীরা তা খায়। রাতে বাকীটা সরিয়ে ফেলা হয়, অবশ্য থাকে অল্প কিছু। এটাই বেস্ট পদ্ধতি বর্জ্য ম্যানেজমেন্টের।
সাভার এখন বর্জ্য শহর হয়েছে। এ শহরে দিন দিন লোক সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই সুস্থ্য থেকে বেঁচে থাকার অধিকার জনগনের রয়েছে। নির্মল অক্সিজেনে আমাদের জীবনে অপরিহার্য। তাই আমি সাধারন একজন নাগরিক হিসেবে বর্জ্যমুক্ত সাভার শহরকে দেখবো বলে বলে আশা করি।
