আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সারা দেশে তলে তলে ধানের শীষের লোকেরাও আওয়ামী লীগের হাত ধরে নৌকায় উঠছে। নারী-পুরুষসহ তরুণ প্রজন্মের ঢল নেমেছে নৌকার পক্ষে।
তিনি বলেন, যেখানে যাচ্ছি সেখানেই ধানের শীষ নৌকায় উঠানো হচ্ছে। সারা বাংলায় ধান কেটে কেটে তোলা হচ্ছে নৌকায়। সারা বাংলার ধান এখন নৌকা হয়ে গেছে।
তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে শনিবার কবিরহাট উপজেলার জনতা বাজার, চরমণ্ডলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে পথসভায় এ সব কথা বলেন তিনি।
কাদের বলেন, বিএনপির এখন একমাত্র সম্বল বিদেশিদের কাছে ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ করা। প্রতিদিন বিদেশিদের কাছে ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আর কোনো দল না গেলেও বিএনপি যাচ্ছে। কেন যায়? নালিশ করতে যায়। কারণ নালিশ ছাড়া তাদের আর কোনো সম্বল নেই।
এ আসনের তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের মতো নালিশ করার পথ ধরেছেন তিনি। ওনার দুঃখ, তিনি যেখানেই যান লোকজন হয় না। কারণ ওনার কার্যকলাপ ভালো নয়। ওনার ঝুলিতে উন্নয়ন নাই। উনি ২২ বছরে এই এলাকায় কী কাজ করেছেন? উনার কয়টা কাজ আপনার দেখাতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, আমার ১২ বছরের উন্নয়ন আর মওদুদ আহমেদ সাহেবের ২২ বছরের উন্নয়নের মধ্যে মিলিয়ে দেখুন। আমার ১২ বছরের কাজ দেখেন, যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি সেখানে এক সময় আসা যেত না, কোনো রাস্তা-ঘাট ছিল না। আর আজ প্রতিটি এলাকার রাস্তাগুলো পাকা করা হয়েছে।
যে ভালো কাজ করেছে বিচার করে তাকেই ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি আমার উন্নয়ন ওনার চেয়ে ভালো না হয়, তাহলে আমি ভোট চাই না। ভবিষ্যতে নির্বাচিত হলে আমরা প্রত্যেক গ্রামকে শহরে পরিণত করব। এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।
তিনি বলেন, আমি সুখের দিনে আসি না, আমি মানুষের বিপদে, অন্ধকারে, ঝড়ে ও দুর্যোগে আসি। কথা দিয়েছিলাম সবাইকে আলো দেবো, আমরা আমাদের কথা রেখেছি। যার ফল আজ সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্লোগান দিয়ে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, শেখ হাসিনার তুলনা কারো সঙ্গে চলে না। ৩০ ডিসেম্বর সারা দিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন।
এর আগে একই ইউনিয়নের জনতা বাজার স্কুল মাঠে এক মহিলা সমাবেশে বলেন, স্বাধীনতার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারই নারীবান্ধব সরকার। শেখ হাসিনার আমলে নারীরা অনেক ক্ষমতাবান হয়েছে। এই সরকারের সময়ে নারীরা রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নারীদের জন্য অনেক করেছেন। নারীরা আজ সম্মানিত হচ্ছেন। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নারীরা হাইকোর্টের বিচারপতি, সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, সচিব হয়েছেন।
এ সময় কাদেরের সাঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন রুমি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।
