স্টাফ রিপোর্টার,৯ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ): পানি কিংবা কোমলপানীয় পানের পর প্লাস্টিকের বোতলটি সাধারণত ফেলেই দিই আমরা। সেই ফেলে দেয়া বোতল দিয়েই এবার সাভারে তৈরি হচ্ছে তুলা,জিও ব্যাগ,বালতি মগসহ নানা পণ্য। এসব পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র,ইউরোপসহ বিশে^র নামি দামি দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। এসব কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে অনেক বেকার নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের।
জানা যায়,মিরপুরের সফল যুবক মোহাম্মদ নুর আলম সাভারের ভরারী ও মিরপুরের বেরিবাধের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় দুই হাজার ছয় সালে শুরু করেন পরিত্যক্ত বোতল দিয়ে এসব পণ্য তৈরির কাজ। তিনি জানান,পথে-ঘাটে প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখে আমার মাথায় বুদ্ধি আসে যে, এই প্লাস্টিকের বোতলগুলোকে কাজে লাগানো যায় কিনা। এসব বোতল মাটিতে বা পানিতে নষ্ট হয় না, শুধু পরিবেশ দূষিত হয়। এগুলো কাজে লাগানো গেলে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। পরে তিনি দুটি বোতল কারখানা দেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিত্যক্ত বোতল কিনে কারখানায় আনেন। পরে শ্রমিকরা বোতলগুলো বাছাই করেন। বাছাই করার পরে সেগুলো গেডিং করে কাটিং মেশিনে ভাঙ্গা হয়। ভাঙ্গার পরে পানিতে বোতলের দানা গুলো আবার ওয়াশ করা হয়। পরে সেগুলো ল্যাবে গুণগত মান পরীক্ষা করে চুরান্ত ভাবে সেগুলো দিয়ে পলিস্টার,পেনস্টিপ,জিও ব্যাগ,মগ,বালতি,তুলা,সুতার কাপড়,শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। এসব পণ্য বা বোতলের দানা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশে^র নামি দামি দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। এসব পণ্য বিক্রি করে তিনি ব্যাপক সফলতা পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কারখানা দু’টিতে অনেক বেকার নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। শ্রমিকরা জানায়,তারা এখানে কাজ করে ভালো বেতন পেয়ে ভালো ভাবে সংসার চালাতে পারছেন।
সরকারী ভাবে একটু সুযোগ সুবিধা বা ২৫-৩০ ভাগ প্রণোদনা পেলে বড় পরিসরে তিনি আরও কারখানা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কারখানা দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আলম।
স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা কারখানাগুলো পরিদর্শন করে তাকে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার আশ^াস দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের ফলে পরিত্যক্ত বোতলের ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল সেটিও কমে এসেছে এখন এইসব কারখানার কারণে। এমন একটি উদ্যোগ সত্যই প্রশংসনীয়।
