২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০(বিবিনিউজ):বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই বন্ধ ছিল এই ছাত্রাবাস। বন্ধ ছাত্রাবাসে কীভাবে এমন একটি ঘটনা ঘটল, এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শনিবার নতুন নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ছাত্রাবাসের যেসব কক্ষে আবাসিক ছাত্ররা ছিলেন, সেসব কক্ষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘বন্ধ’ ছাত্রাবাস আবার বন্ধের নির্দেশ এল।
দুপুরে ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ। এর মধ্যে কয়েকটি কক্ষ থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মালপত্র নিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে।
শুক্রবার রাতে গণধর্ষণের ঘটনার পর যোগাযোগ করা হলে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ বলেছিলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে কলেজের পাঠদান বন্ধ। এ জন্য ছাত্রাবাসও বন্ধ।’ সে ক্ষেত্রে বন্ধ ছাত্রাবাস আবার বন্ধ ঘোষণা করে ছাত্রদের তা ছাড়ার নির্দেশ কেন এবং ছাত্রাবাসে কারা ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি শনিবার বলেন, ‘এসব নিয়ে একাডেমিক সভা ডাকা হয়েছে। এই সভার পর সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হবে।’
ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিন ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কলেজ বন্ধ, হোস্টেলও (ছাত্রাবাস) বন্ধ আছে। তবে কিছু শিক্ষার্থী টিউশনি করানোর জন্য ছাত্রাবাসে থাকছেন। তাঁদের ছাত্রাবাস ছাড়তে বলা হয়েছে।’
শুক্রবার রাতে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া তরুণীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রাবাস বন্ধ থাকলেও ছাত্রাবাসের ওই কক্ষ ২০১২ সাল থেকে ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষ হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মোট নয়জনের নামে ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে অস্ত্র মামলায়ও আসামি করা হয়েছে।
