দিয়া , সাভার থেকে : শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে এসেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। অতিথি পাখির কল কাকলিতে মুখর এখন পুরো বিশ^বিদ্যালয়। ঋতুর পালাক্রমে বিদায় নিচ্ছে শরৎ। পাতাঝরা হেমন্ত এসে কড়া নাড়ছে দরোজায়। হেমন্ত যেতে না যেতেই কুয়াশার চাঁদর পরে বাংলার জমিনে নামছে শীত। যদিও ইতিমধ্যে একটু একটু কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। রাতের শেষ বেলায়ও শীত পড়ছে বেশ। প্রকৃতির যখন এ অবস্থা ঠিক তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। পাখি গুলো দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন লেকে ভীড় করেন দর্শনার্থীরা।
দেখলেই বোঝা যায়, ষড়ঋতুর এই দেশে শীত আসছে উৎসবের আমেজে। আর সে উৎসবটা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে জাবি ক্যাম্পাসে একটু বেশিই। কারণ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে আসতে শুরুকরেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। এখন অতিথি পাখির কল-কাকলিতে ঘুম ভাঙছে শিক্ষার্থীদের। অতিথি পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন তাদের ভালো লাগার কথা।
ভক্স পপ চারজন দর্শনার্থী।
এবিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন সাধারণত হিমালয়ের উত্তরের দেশ সুদুর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপালে এ সময়টায় প্রচুর তুষারপাত হয়। এ তুষারপাতে পাখিরা টিকতে না পেরে বাংলাদেশের মত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা নাম না জানা এসব পাখি জাহাঙ্গীনগর বিশ^বিদ্যালয়ে আসে । তবে এবার সরালী অতিথি পাখি এসেছে বেশী। শীত চলে গেলে তারাও চলে যাবে তাদের আপন ঠিকানায়। তাই এ অতিথিদেরকে স্বাগত জানাতে নতুন রূপে সেজেঁছে জাবির লেকগুলো। অসংখ্য রক্তিম ফুটন্ত লাল শাপলার সৌন্দর্যে মন মাতানো রূপ ধারণ করেছে জাবি ক্যাম্পাস। দূর থেকে তাকালেই প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। যেকারো নজর কাড়বে এ দৃশ্য। শহরের ব্যস্তময় জীবনে যান্ত্রিকতার আওয়াজ আর ধুলাবালি থেকে মুক্ত এ ক্যাম্পাসটিতে তাই প্রতিনিয়তই ভিড় জমছে অসংখ্য দর্শনার্থীর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেয়রী গেট দিয়ে পা রাখলেই মনে হবে এ যেন এক প্রকৃতির লীলাভুমি। একটু সামনে আসলেই চোখে পড়বে একটি লেক। যাতে ফুটে আছে অসংখ্য লাল শাপলা। তারপর শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে ডান দিকে গেলেই চোখে পরবে রাস্তার দুপাশের লেকগুলোতে ফুটে থাকা রক্তকমল। আর তাতে খেলা করছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখিরা। তারা কখন উড়ছে, কখন ডুব দিচ্ছে, আবার কখন চুপ মেরে বসে আছে। এর সৌন্দর্য নিচ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। তিনি আরো জানান জাবির এ আঙিনায় যেসব অতিথি পাখি আসে তা হলো- সরালী, পিচার্ড, গার্গেনি, মুরগ্যাধি, মানিকজোড়, কলাই, নাকতা, জলপিপি, ফ্লাইপেচার, কোম্বডাক, পাতারি, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি ইত্যাদি।
পাখি রক্ষায় নানা পদক্ষেন নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন। শীতের শুরুতেই পাখি আসায় তারাও দারুন খুশি।
সিংক মনোয়ার হোসেন অধ্যাপক প্রাণী বিদ্যা বিভাগ জাঃবি
দৃষ্টিনন্দন লেকে নানান জাতের শাপলা, তার মাঝে অতিথি পাখিদের খুনসুঁটি, পানির মাঝে ডুবোডুবি আর উড়োউড়ি এসব দেখতে, ক্যাম্পাসের কুয়াশায় গা জড়াতে, ঠান্ডা বাতাসে গাটাকে শিহরিত করতে, ব্যস্ততম এ জীবনে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে আরে এ সৌন্দর্য বলে মনে করেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে এসেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি
