নিউইয়র্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে আজ বুধবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মানবিক সংকট বাড়ার প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ও সুইডেন বৈঠকটি ডেকেছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক চালানো ব্যাপক হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ইস্যুতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলার জের ধরে রোহিঙ্গা নিধনে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র অড্রিয়ান এডওয়ার্ডস এ কথা জানান। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থলসীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এমন দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়ার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে যা ঘটছে তা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার।
যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য সুইডেন ও যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।
নিয়মানুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের যে কোনো একটি দেশ যদি কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সেটি আটকে যায়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে কী প্রস্তাব দেয়া হবে, আর সে প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট আসতে পারে আজ তা জানা যাবে।
বৈঠকের বিষয়ে জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রাইক্রফট জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে রোহিঙ্গারা যেভাবে পালাতে চাইছে এবং দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, তাতে নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যদের যথেষ্ট উদ্বেগ থেকেই এ বৈঠক হচ্ছে।
এর আগে গত আগস্টে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে সহিংসতার বিষয়ে আলোচনার জন্য এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। তবে ওই বৈঠকের পর পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি। আজকের বৈঠক থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রাইক্রফট আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ঢাকায় ব্রিফ করার পর বুধবার কক্সবাজারে সরেজমিন রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহকারী কমিশনার জর্জ ওকথ-ওবো বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
