সাটুরিয়ায় ভুল অপারেশনে প্রসুতির মৃত্যু : লাশের দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

saturia-daigস্টাফ রিপোর্টার, বিবি নিউজ সার্ভিস :  

ভুল অপারেশনে প্রসুতি মৃত্যুর পর তা ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় দফা-রফা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে সাটুরিয়া ডায়গনষ্টিক সেন্টার এন্ড নার্সিং হোমে। গোপনে মামলা থেকে বাঁচতে নিহতের আত্বীয়-স্বজনদের মাধ্যমে এ আপোষ করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। নিহত প্রসুতি আইরিনের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানা রোডের ইউপি ভবন সংলগ্ন পাড়ায়।

জানাগেছে, গত বুধবার সাটুরিয়া ডায়গনষ্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোমে সন্তান প্রসবের জন্য আইরিন নামে এক গৃহবধুর অপারেশন শুরু হয়। ভুল অপারেশনের কারনে প্রায় দেড় ঘন্টা আইরিনের শরীর থেকে রক্ত ঝড়তে থাকে। এ সময় ৫ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয় আইরিনকে। শেষ রক্ষা আর হয়নি। প্রসুতিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আইরিনকে বহনকারী মাইক্রোবাস ও তাতে থাকা হাসপাতালের লোকজন লাশটি ঢামেকের বারান্দায় রেখে পালিয়ে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইরিনের আত্বীয়-স্বজন ও মিমাংসাকারী প্রভাবশালীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ঘটনায় হাসপাতালের মালিক মো: মহিউদ্দিন অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় আইরিনের বাবা নূর মোহাম্মদকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ রফা করে ফেলে।

নিহত আইরিনের স্বামী সোহাগ জানান, প্রসুতির জরায়ূ কেটে ফেলার কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

আইরিনের ফুপু শাবানা জানায়, সাটুরিয়া ডায়গনষ্টিক এন্ড নার্সিং হোম থেকে রক্ত ভরতে ভরতে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয় আইরিনকে। এরপর সারা পথ রক্ত ভরতে থাকে মাইক্রোতে থাকা এক নার্স। শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর পার হতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে আইরিন। তাকে পাষন্ডরা ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় ফেলে পালিয়ে চলে আসে।

বিষয়টি নিয়ে সাটুরিয়া ডায়গনষ্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোমের মালিক মো: মহিউদ্দিন ও তার ভাই মহসীনের সাথে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর পরই হাসপাতালে তালা ঝুলানো দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে খবর জেনেছি। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি বলে মামলা গ্রহন করা হয়নি। তবে, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে প্রকাশ করেন তিনি।

অপরদিকে, এ সংবাদ প্রকাশ করার জন্য এ প্রতিবেদককে হুমকী দিয়েছে জাকির নামে এক সন্ত্রাসী। সে তার নীল প্রদীপ নামে ফেসবুক আইডির মাধ্যমে এ প্রতিবেদককে হুমকী দেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সাটুরিয়া থানা ওসিকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Related posts

Leave a Comment