৪ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ ): স্কুলে বিয়ের অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ায় চট্টগ্রামে এক প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা-পুলিশ। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মিয়া মো. হারুন খান। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহসভাপতি।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকার খান সাহেব আবদুল হাকিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে মোট চারজনকে আসামি করে গতকাল রাতে একটি মামলা করেন। তাঁর এই মামলার ভিত্তিতে গতকাল রাতেই প্রধান আসামি যুবদল নেতা হারুন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ডবলমুরিং থানার পুলিশ জানায়, স্কুলটির ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. একরাম মিয়া। তিনি স্কুলে তাঁর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের কাছে অনুমতি চান। কিন্তু করোনার কারণে বন্ধ স্কুলে বিয়ের অনুমতি দেননি নিজাম উদ্দিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই গত ২৫ জুন স্কুলে বিয়ের আয়োজন করেন একরাম। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। স্কুলে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে না দেওয়ায় শিক্ষকদের স্কুলে আসতে মানা করে দেন আসামিরা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করা হয়। গত ৩০ জুন পাঁচলাইশ ডবলমুরিং থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল স্কুলে আসে। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক স্কুলে আসেন। তাঁদের আসতে দেখে জোরপূর্বক স্কুলে ঢোকেন একরামের দুই ভাই হারুন খান ও জানে আলম। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মো. মাসুদ, মো. প্রিন্স ও মো. আল নাহিয়ান নামের তিন ব্যক্তি।
ঘটনার দিন আসামিরা প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। একপর্যায়ে আসামিরা টেবিলে থাপ্পড় মেরে প্রধান শিক্ষককে (নিজাম উদ্দিন) দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁকে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ‘বাঁচাতে পারবেন না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে।
