স্টাফ রিপোর্টার,১ জুলাই,২০২১(বিবিনিউজ ): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রসায়ন বিভাগের ৪২তম ব্যাচের ছাত্র জাহিদ হাসান রাজু এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ জাহিদের সন্ধানের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। হন্য হয়ে সন্তানকে খুঁজছেন মা। কিন্তু কেউই সন্ধান দিতে পারছেন না। উল্টো কয়েকটি প্রতারক চক্র ছেলেকে পাওয়া গেছে দাবি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবেই নাজুক পরিস্থিতিতে দিন কাটছে পরিবারটির।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা আকলিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকার মিরপুরে থাকতো। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাগরিবের নামাজ পড়তে বের হয় জাহিদ। তবে নামাজ শেষে সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। তখন থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল দু’টি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় শনিবার (২৬ জুন) পল্লব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি (জিডি নং- ২৩৯২)।
তিনি আরও বলেন, জাহিদ নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে টাকা চেয়েছে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা পাঠিয়েছি। তারপরেও আমার ছেলের কোন সন্ধান তারা দেয়নি। টাকা দেওয়ার পরেই প্রতারক চক্রের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলের খোঁজ পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই সময় জাহিদের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, হয় আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন। নয়তো আমাকে ছেলের কাছে নিয়ে যান। আমার ছেলে ছাড়া পরিবার কানা হয়ে যাবে। আমি এই পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান রাজুর স্ত্রী হাফসা আক্তার বলেন, আমাদের এক বছরের একটি শিশু কন্যা আছে। এই কয়দিন সে তার বাবার সাথে কথা বলতে পারছে না। সারাক্ষণ মোবাইলে বাবার ছবি দেখে আব্বু, আব্বু ডাকে। যতদ্রুত সম্ভব আমার স্বামীর সন্ধান চাই। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এই বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, নিখোঁজ জাহিদ হাসানকে উদ্ধার করতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। গতকাল আমরা একটা সংবাদ পাই মৌলভীবাজারে তাকে পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করি কিন্তু হদিস পাওয়া যায়নি। তার পরিবার দাবি করছে গত ২৬ তারিখে তার ফোন থেকে কল এসেছে। কিন্তু এর সত্যতা আমরা পাইনি। তার ফোন সর্বশেষ চালু ছিলো ২৪ তারিখেই। এরপর থেকে আর কোনো তথ্য আমরা পাচ্ছি না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান জানান, আমাদের ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর রাখছি। ইতিমধ্যে পল্লবী থানাকে অনুরোধ করেছি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জাহিদকে উদ্ধারে কাজ করতে।
