জোহরা খাতুন, ৬ নভেম্বর,২০২০(বিবিনিউজ):আপনার সন্তানের পড়াশোনার খরচ একবার আপনিই পরিশোধ করছেন খাজনা ও কর প্রদান এবং পরিবারের প্রয়োজনীয দ্রব্য কিনতে গিয়ে ট্যাক্স বা মূসক দেয়ার মাধ্যমে। যা সরকারি ব্যবস্থাপনায় সংগৃহীত হয়ে থাকে। বিনিময়ে রাষ্ট্র, সরকার আপনার সন্তানের অবৈতনিক শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বিনামূল্যে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে, বছরের প্রথমদিনেই শিশুর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন বই। প্রতি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করে তার জন্য একজন শিক্ষকের পদসৃজনসহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এবং তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই শিক্ষার শিক্ষাক্রম, শিক্ষক সহায়িকা, এবং পাঠ্যবইসহ সকল উপকরণের মান সকল মহল কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রশংসিত। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সরকার দুইবছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করনের জন্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুর সার্বিক বিকাশকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ে শিক্ষাক্রম এবং সহঃশিক্ষাক্রমের আয়োজন করছে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শিশুর পারদর্শীতাকে দৃশ্যমান হতে সহায়তা করছে। প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যাতে বিদ্যালয়েই তার পড়াশোনার কাজ শেষ করতে পারে এবং বাড়িতে যাতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দে কাটাতে পারে, গৃহে যেনো কোনো পড়াশোনার চাপ না থাকে, সেজন্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মহোদয় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০২২ সালে এক শিফটে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। তার জন্যে সকল পৃষ্ঠপোষকতাসহ আনুষঙ্গিক সকল ধরনের প্রস্তুতি সরকার গ্রহণ করছেন। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষক সংস্ককরণ, শিক্ষক সহায়িকা, শিক্ষক নির্দেশিকাসহ সকল শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ (মূল্যায়নের টুলসসহ) প্রস্তুতে দেশী-বিদেশী পরামর্শক, শিশু বিশেষজ্ঞ ছিলো এবং এ সকল উপকরণ উন্নয়নে শিশুর বয়স, সামর্থ্য, আগ্রহ, মেধা ও প্রবণতাকে বিবেচনায় আনা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্রমান্বয়ে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ শিশুর নিকট আকর্ষণীয় হচ্ছে, আইসিটি টুলস্ ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু রয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পর্যাপ্ত টয়লেট-ওয়াসবস্নকসহ স্যানিটেশনব্যবস্থা নিশ্চিত হচ্ছে। শেণিকক্ষভিত্তিক উন্নয়নকে তরান্বিত করার জন্যে বর্তমান সরকার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রেণিতে একটি মুক্তযুদ্ধভিত্তিক বুক কর্নার স্থাপন করা হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিটি শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নে শুরুতেই প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণ (১০-১৫ দিনের), সাটির্ফিকেট-ইন-এডুকেশন (১২ মাসের) ও ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন (১৮ মাসের) প্রদান করা হয় এবং ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন বজায় রাখতে সকল শিক্ষক স্থানীয়ভাবে বিষয়ভিত্তিক (প্রতিটি ৬ দিনের) এবং সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ (প্রতি তিন মাসে ১ দিন) পেয়ে থাকেন। যা বিদ্যালয়ে এবং পদ্ধতিগত পাঠদানে শিক্ষককে সমৃদ্ধ করে, পাঠদানকে আকর্ষণীয় ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে তোলে। শিশুর সৃজনশীলতা ও মেধাকে শাণিত করার জন্যে সহঃপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু করা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে তার সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার এবং ভালো উপস্থাপক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যেটা বিদ্যালয়, ক্লাস্টার, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় এটা সর্বমহলে প্রশংসিত ও নন্দিত। শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ১ঃ৩০ করার লক্ষ্যে প্রতি বছর শিক্ষক নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে এবং সরকার এ অভীষ্ঠ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নিবেদিতভাবে। অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন অনেকেই বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় এসে এই পেশাকে সমৃদ্ধ করে তুলছেন। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং একজন সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
এছাড়াও বছরব্যাপী ধারাবাহিক পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে Teachers Support Network(TSN), Lesson Study, Academic Supervision, Monitoring & Mentoring শিখবে প্রতিটি শিশু মডেল কার্যক্রম, মিড ডে মিল, One day one word,, দিনের পড়া দিনে শেষ,RPD-এর ব্যবহার, Action Research, Sub-claster training, Subject Based Training, Leadership Training, Curriculum dissemination , ICT in Education, Math Olympiad Training, Pre-Primary & Induction Training, শিক্ষক সংস্করণ ও নেপ কর্তরর্ক পরিমার্জিত বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা ব্যবহার তো রয়েছেই।
এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে চাকুরিকালীন শিক্ষকদের সকল ধরনের ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণ এডহক বা সাময়িক। যার স্থায়িত্ব খুব বেশি কাম্য নয়। উন্নত দেশের মতো শিক্ষকতা পেশায় স্থায়ীভাবে অনুপ্রবেশের পূর্বে শিক্ষক প্রি-সার্ভিস শিক্ষাকোর্স/ ডিপ্লোমা/শিক্ষা সংক্রান্ত স্বল্পমেয়াদী ইনকোর্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় না থাকায় শিক্ষকদের জন্যে চাকুরিকালীন এ প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা শুধুমাত্র তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য। প্রতিবছর শতভাগ শিশু যাতে ভর্তি, উপস্থিতি, ঝরে পড়া এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর হার শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে শতভাগ উপবৃত্তি বর্তমান সরকার চালু করেছেন। এটা একটি বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সুতরাং আর নয়, কিন্ডারগার্টেন/বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যোগ্যতাভিত্তিক শিখন নিশ্চিতকরণে আপনার সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে ভবিষ্যতে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বির্নিমাণে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সরকারকে সার্বিক সহায়তা করুন।
