নারীরা সকল ক্ষেত্রে পারদর্শিতার স্বাক্ষর রাখছেন নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

৮ মার্চ, ২০২০ (বিবিনিউজ): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশের নারী সমাজ তাদের দক্ষতা ও পারদর্শিতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি, যাতে তারা এগিয়ে যেতে পারে। কাজেই তারা যেখানেই যাচ্ছে তাদের পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।


‘প্রজন্ম হোক সমতার,সকল নারীর অধিকার’ শীর্ষক এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা ভারত্তোলন থেকে শুরু করে এভারেষ্ট পর্যন্ত বিজয় করে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘খেলাধূলায় আমাদের যেসব মেয়েরা ভাল করছে তাদেরকে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি এবং সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মেয়েরা যে পারে সেটা আজ প্রমাণিত।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে কন্টিনজেন্ট কঙ্গোতে আছে, সেখানে তারা খুব ভালো করছে এবং শান্তিরক্ষা মিশনে মেয়েদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর নারী অফিসারদেরকেই তারা চাচ্ছে। কারণ মেয়েরা সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে।’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ইউএন উইমেনের এদেশীয় প্রতিনিধি এবং ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়ক শোকো ইশিকাওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জয়িতা পদকে’ ভূষিত সফল পাঁচজন নারীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
পদক প্রাপ্তরা হলেন- আনোয়ারা বেগম, ডা. সুপর্ণা দে সিম্পু, মরহুম মমতাজ বেগম, অরনিকা মেহেরিন ঋতু এবং সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর।
অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও নারী উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র পরিবেশিত হয়। পরে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার প্রধান সহ বিভিন্ন নারী নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী মালিকপক্ষের দমন-পীড়নের শিকার হন। সেইদিনের নারী আন্দোলনের স্মরণে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের আহ্বানের মধ্যদিয়ে বিশ্বব্যাপী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতার নির্দেশে ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারীরা যত শিক্ষিত হবে, নারীরা যত স্বাবলম্বী হবে সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। কারণ সমাজের অর্ধেক অংশকে অকেজো রেখে দিয়ে একটি সমাজ সঠিকভাবে চলতে পারে না। সে সমাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতা, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা সহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতা জোর করে হয় না। ক্ষমতা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করে নিতে হয়। ক্ষমতা কেউ হাতে তুলে দেয় না। সেভাবেই আমাদের বোনদের নিজেদের তৈরি করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ধর্ষণের মত সামাজিক ব্যাধি থেকে সমাজকে রক্ষায় পুরুষদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশে
বিশ্বব্যাপী আতংক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে বাংলাদেশের এই সমস্যা মোকাবেলার সামর্থ রয়েছে উল্লেখ করে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী

Related posts

Leave a Comment