সাভারে যৌতুকের জন্য প্রাণ গেল রাবেয়ার

স্টাফ রিপোর্টার, ১ নভেম্বর,২০২০(বিবিনিউজ):সাভারে যৌতুকের টাকা দিতে না পাড়ায় গৃহবধূ নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে আভিযোগ স্বজনদের । এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকালে সাভারের হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকায় হাজী আলাউদ্দিনের বাড়িতে।

নিহত ঐ গৃহবধুর নাম রাবেয়া আক্তার (১৯)। এঘটনায় নিহতের বাবা রবিউল আলম বাদি হয়ে ওইদিন রাতেই আত্মহত্যা ও প্ররোচনার অভিযোগ তুলে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে নিহতের বাবা ।

মামলার আসামীরা হলেন নিহত গৃহবধূর রাবেয়া আক্তারের স্বামী সোহানুর রহমান (২২), শাশুড়ি শিল্পী বেগম (৩৮) ও শশুর স্বপন মিয়া (৪৭)।

এ ঘটনায় , নিহত গৃহবধূর শাশুড়ি শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন মামলার অন্য আসামীরা।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায় , গত একবছর আগে সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার বাসিন্দা রবিউল আলমের মেয়ে রাবেয়া আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন তারা।

হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকার মো. স্বপন মিয়ার ছেলে মো. সোহানুর রহমান। বিয়ের পর থেকেই মা-বাবার প্ররোচনায় স্ত্রী রাবেয়ার কাছে ১০ লক্ষ টাকার যৌতুক দাবি করে আসছিল স্বামী সোহানুর।

যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় নিহিত গৃহবধূকে নির্যাতনসহ নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

গত এক মাস আগে স্বামীর পরিবারের সাথে ওই গৃহবধূর পরিবার আলোচনা করলে তাদের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা দিতে না পারলে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেয় স্বামী সোহানুর।

তার থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন গৃহবধু রাবেয়া। অবশেষে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হন ওই গৃহবধূ।

পেরে শনিবার বিকেলে গৃহবধূ রাবেয়া কক্ষের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

খবর পেয়ে শনিবার রাতে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন শিকদার বলেন, গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গৃহবধুর শাশুড়ি শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গৃহবধূর স্বামীসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

Related posts

Leave a Comment