অজ্ঞাত কারণে পদোন্নতি পাচ্ছেন না ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণ

ষ্টাফ রিপোর্টার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০(বিবিনিউজ):প্রাথমিক শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ স্তর। আর প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষতাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) ও স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে পিটিআই নিয়ন্ত্রিত উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) ।পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণ মাঝে মাঝে পদোন্নতি পেলেও বছরের পর বছর ধরে একই পদে চাকরিকরে এবং উচ্চপদ খালি থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না পাওয়ায় হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ইউআরসি ইন্সট্রাক্টররা। ফলে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি-৪) আলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমেই আমাদের ভাবতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা হল সকল শিক্ষার ভিত্তি। মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক। আর বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক তৈরির কাজটি করে থাকে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই)এর অধীন উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৭টি পিটিআই এর অধীন নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক তৈরির কাজটি নিরবচ্ছিন্নভাবে দক্ষতার সাথে করে যাচ্ছে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণ। এই দীর্ঘ পথ চলায় ইউআরসি কর্মকর্তাদের প্রাপ্তি যেমন রয়েছে তেমিন না পাওয়ার বেদনাও রয়েছে। উচ্চতর পদে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের প্রধান সমস্যা। এভাবে চলতে থাকলে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণকে সমগ্র চাকুরিজীবনে কোনো প্রকার পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হতে পারে, যা খুবই দুঃখজনক।
উল্লেখ্য ৬৭ টি পিটিআইয়ে একজন সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট থাকায় এবং বিভিন্ন ব্যাস্ততার কারণে পিটিআিইয়ের অধীনে থাকা ইউআরসি পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।এছারা সহকারী সুপারগণ পিটিআই ইন্সট্রাক্টর থেকে আসায় ইউআরসি পরিচালনায় অভিজ্ঞতার ও অভাব ছিল্। ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত শিক্ষা বান্ধব সরকারের সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দীর্ঘদিনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় , বর্তমান সরকার দেশের ৬৬টি পিটিআইতে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ সৃজন করে, যা প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর পিটিআই সমূহে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের যে পদ সৃষ্টি হয়েছে তা বর্তমান সরকারের একটি সাফল্য।পিটিআইতে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ সৃষ্টি হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে একটি প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবতি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি বঞ্চিত ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণকে এ পদগুলোতে পদায়ন করা খুবই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত বিষয়।
কিন্তু ৬৬টি সহকারী সুপারের জিও জারিসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নবসৃষ্ট সহকারী সুপারের পদসহ ১০১টি শূন্য পদের মধ্যে ৬৮ জন পিটিআই ইন্সট্রাক্টরকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কোন ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরকে পদায়ন করা হয়নি। ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণ বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার
অথচ নবসৃষ্ট এই পদে দ্রুত পদায়ন হলে ইন্সট্রাক্টরগণ নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা পাবেন, যা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে তথা বর্তমান সরকারের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের আবেদন নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট এর নতুন ৬৬টি পদ সৃষ্টি করেছেন। ইউ আর সি না থাকলে কখনো পি টি আই তে ৬২ টি সহঃসুপারের পদ সৃষ্টি হত না। তাছাড়া ইউ আর সি গুলোকে দেখভালের জন্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইউ আর সি কর্মকর্তাদেরকে উক্ত পদে পদায়ন এখন সময়ের দাবী
বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সৃষ্ট ১৮টি পদ ও সরাসরি নিয়োগের ১০টি পদসহ মোট ৯৪টি সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ১৯৮৯ এর নিয়োগ বিধি মোতাবেক পদায়নের সুযোগ নেই। এই পদগুলোতে পদায়ন করতে হলে প্রস্তাবিত নিয়োগ বিধি অনুসরণ করে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে পদায়ন করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নিয়োগ বিধির আলোকে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে পদোন্নতি/পদায়ন/চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে , শুধুমাত্র ইউআরসি, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণ বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার। তাই ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের পক্ষ থেকে সম্মানিত কর্তৃপক্ষ বরাবর বিণীত নিবেদন দ্রুত বর্তমানে শূন্য ৩৩টি সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে প্রস্তাবিত নিয়োগ বিধি অনুসরণ করে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে থেকে জেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদায়ন করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবেন।
প্রত্যাশা করছি,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, সিনিয়র সচিব মহোদয়,সদ্য যোগদানকৃত মহাপরিচালক মহোদয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণকে পদোন্নতি প্রদান করে দীর্ঘ দিনের হতাশা থেকে মুক্তি প্রদান করবেন।

Related posts

Leave a Comment