
২৮ জুলাই ,২০১৯(বিবিনিউজ):ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বলছে, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী শুধু ভর্তি হচ্ছে তা নয়, সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন। শনিবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৮৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বেশিসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেলের নতুন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ভবনকে আপাতত ডেঙ্গু ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ভাবে তেজগাঁওয়ের সরকারি গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০টি মেডিকেল টিম গঠন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। তিন সদস্যের এসব টিম সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে।
প্রতিটি সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু কেন্দ্র খোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র রোগী শনাক্ত করার পাশাপাশি কোন রোগী ভর্তি করা দরকার আর কাকে বাড়ি রেখে চিকিৎসা নিলে চলবে, সেই সিদ্ধান্তও দেওয়া হবে। এতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকার সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কুলে পাঠানো হবে। এসব কাজ দু-এক দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে মহাপরিচালক জানিয়েছেন।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল ৪০ শয্যার ডেঙ্গু চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র খুলেছে। ২৫টি শয্যা কেবিন ব্লকের ও বাকি ১৫টি শয্যা ডি ব্লকে মেডিসিন বিভাগে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিছানা দিতে না পারায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের মাঝের ফাঁকা জায়গায় রোগী রাখা হচ্ছে। গুরুতর ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রতিটি তলায় বিশেষ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, সব ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার নেই। বিশেষ কিছু উপসর্গ থাকলে এবং গুরুতর রোগীকেই হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। একটি পকেট চিকিৎসা নির্দেশিকাও তৈরি করেছে।
